ক্ষুধার্তদের পাশে মানিকছড়ির ছাত্র সমাজ

fec-image

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত কারো হাতে কর্ম নেই। ঘরে ঘরে চলছে ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার। মানিকছড়ির প্রত্যন্ত জনপদে লোকলজ্জায় নিজেকে আড়াল করে রাখা ওইসব ক্ষুধার্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ-সামগ্রী নিয়ে হাজির উপজেলার চার শিক্ষার্থী।

বৈশ্বিক মহামারি ‘করোনাভাইরাস’ প্রতিরোধে দেশব্যাপি চলছে ঘোষিত ও অঘোষিত লকডাউন। আজ ১ মাস পেরিয়েছে। ফলে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্রই মানুষজন গৃহবন্দি। সমাজের হত-দরিদ্র, অতি-দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের সকলেই বাসাবাড়িতে খাদ্যসংকটসহ দূর্বিসহ জীবন-যাপন করছে।

এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ সরকারের বিভিন্ন বরাদ্দে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখলেও জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন সামনে রেখে তালিকা প্রস্তুতে কিছুটা স্বজনপ্রীতি করায় আজও অনেক পরিবারে ত্রাণ-সামগ্রী পৌঁছেনি। ফলে তারা খেয়ে না খেয়ে জীবন-যাপন করছে।

সমাজের বাস্তব এমন ঘটনায় মানিকছড়ির ছাত্র-সমাজ পৃথক পৃথকভাবে স্ব-উদ্যোগে অসহায় ও ক্ষুধার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেউ দাঁড়িয়েছে ‘মানবিক’ মানিকছড়ি’র ব্যানাবে, কেউ ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে, আবার কেউ স্ব-উদ্যোগে।

মানিকছড়ি গিরিমৈত্রী ডিগ্রি কলেজে পড়ুয়া মোস্তফা আবির, মো. শরিফ, মো. জামাল ও হাবিব। ওরা ৪ বন্ধু মিলে নিজস্ব অর্থায়নে ‘করোনা’য় মানুষজন গৃহে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকে উপজেলার শান্তিনগর, সাপুরিয়া পাড়া, রহমান নগরসহ বিভিন্ন এলাকার ইতোমধ্যে ২৮পরিবারে ত্রাণ-সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। তারা অন্তত ১শত পরিবারে ত্রাণ-সামগ্রী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মো. মোস্তফা আবির বলেন, আমরা ছাত্র, নিজেদের আয়-রোজগার নেই। কিন্তু মানবতার দুঃখ, ক্ষুধার্তের আর্তনাদ আমাদেও বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাই কলেজ খোলা থাকলে প্রতিদিন যেভাবে পকেট-খরচ করতাম, অন্তত এখন মানুষের দূর্ভোগে সে টাকার সাথে আরো কিছু যোগান দিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াই। কারণ মানুষ মানুষের জন্য। আমরা নিজেরা ত্রাণ-সামগ্রীর প্যাকেট কাঁধে নিয়ে ক্ষুধার্তের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস, জেলা পরিষদ, মানিকছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 3 =

আরও পড়ুন