খাগড়াছড়িতে বিসিবি পরিচালক আসিফের বক্তব্যে রুবাবা দৌলা প্রসঙ্গ


বাংলাদেশ ক্রিটেক বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ আকবর খাগড়াছড়ি পরিদর্শনে গিয়ে বলেছেন, বর্ষা মওসুম বাদ দিয়ে ৮ অন্তত প্লেয়াররা যাতে ক্রিকেটের মধ্যে থাকে, সে ব্যাপারে আমরা একটা প্ল্যান করেছি। এক্ষেত্রে খাগড়াছড়ি একটা টাস্ক পাবে। তিন পার্বত্য জেলা নিয়েই এই টুর্নামেন্টগুলো হতে থাকবে।
এদিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আরেক তারকা ব্যক্তিত্ব রুবাবা দৌলা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি বিসিবির সভায় পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন। বিসিবিতে তিনি প্রথম কোনো নারী, যিনি পরিচালক পদে যোগ দিয়েছেন। খাগড়াছড়ি মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দেশের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী ও ক্রিকেটপ্রেমী আসিফ আকবর তাঁর বক্তব্যে রুবাবা দৌলা প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘আমাদের একজন নারী ডিরেক্টর আছেন রুবাবা দৌলা। তিনি আমাদের গ্রুপে টেক্স করেছেন। তিনি খুব খুশি যে, আমি পার্বত্য এলাকা দিয়ে আমি আমার কাজ শুরু করেছি। সেক্ষেত্রে আমরা যেটা করতে চাচ্ছি যে, একটা প্লেয়ার যাতে বছরে অন্তত ১৮/২০টা ম্যাচ খেলতে পারে এবং আমরা একটা ইয়ার ক্যালেন্ডার করব, যেখানে থাকবে যে এই বছর আমরা কতগুলো টুর্নামেন্ট করতে পারব। হকি, ক্রিকেট, ব্যাটমিন্টন, সবগুলো খেলা মিলিয়ে এই ক্যালেন্ডার করতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর বিকেলে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন পরিচালক আসিফ আকবর। এ সময় তিনি খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ক্রিড়া ক্ষেত্রে প্রতিভাবান ছেলেমেয়েদের দেশের মূলধারায় অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে যুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেছেন, দেশের যেসব পিছিয়ে পড়া জনপদ আছে, যেখানে ইতোপূর্বে কখনো মনোযোগ দেয়া হয়নি, এগুলোর উন্নয়নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কাজ করতে চায়।
আসিফ আকবর বলেন, যেহেতু আমি ক্রিকেটের এইজ গ্রুপের দায়িত্বে আছি, এই দায়িত্বের অংশ হচ্ছেন নতুন ছেলেমেয়েরা। যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বে রিপ্রেজেন্ট করবে। বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে গিয়ে তারা দেশের জাতীয় সম্পদ হবেন। এজন্য তাদের প্রতি সেই ট্রিটমেন্ট (পরিচর্যা) প্রয়োজন হবে। যা আমাদের বোর্ড থেকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে। আমি পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষভাবে নজর দেব এবং সে কারণে তিন জেলা সফর করছি।
পার্বত্য জেলাসমূহে মাঠের সমস্যা সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করছেন আসিফ আকবর। তিনি বলছেন, ‘মাঠ সমস্যা কাটিয়ে তোলা সম্ভব হলে স্পন্সর থেকে শুরু করে সবই করা হবে। এখানে যেহেতু মাঠের স্বল্পতা রয়েছে তাই আমাদের প্রথমেই চিহ্নিত করতে হবে স্কুল-কলেজ, ঈদগাহ কিংবা টাউন হল, পুলিশ লাইনসের মাঠ ব্যবহার করা যায় কিনা। এসব মাঠগুলোয় ছোটখাটো উন্নয়ন করে বাচ্চাদের খেলার জন্য প্রস্তুত করা যায় কিনা। তাছাড়া আর্মি ক্যাম্প এরিয়াতেও মাঠ থাকলে সেটাও আমরা ব্যবহার করতে চাইব, যেখানে এখানকার বাচ্চারা খেলবে। প্রয়োজনে অবশ্যই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পারমিশন নিয়েই খেলব। তাতে তো কোনো সমস্যা নেই।’
স্টেডিয়ামে পরিদর্শনে এসে তিনি গ্যালারি উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্রিকেট ভবিষ্যত বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে বলেও স্বপ্ন দেখেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রামের মেয়েদের ক্রিকেট খেলায় আগ্রহী করে তুলতে বিসিবি’র আলাদা ফোকাস থাকবে। সর্বপরি খাগড়াছড়িতে ক্রিকেট খেলা ও খেলোয়াড়দের এগিয়ে নিতে আলাদা দৃষ্টি রাখারও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বিসিবির এই নতুন পরিচালক।
এ সময় তিনি তাঁর কণ্ঠে থিম সঙয়ের আদলে ‘বেশ বেশ সাবাস বাংলাদেশ, যাও এগিয়ে আমার বাংলাদেশ’ গেয়ে উপস্থিত ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করেন। খাগড়াছড়ি পরিদর্শনকালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসহ ক্রিকেট অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
















