খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের মানবিক সহায়তা

fec-image

সমাজের অসহায় দরিদ্র, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তায় ৬ ভিক্ষুককে ৬টি গরু, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সাদা ছড়ি, হুইল চেয়ার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ১৫ লক্ষাধিক টাকার সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে।

৩৪তম আন্তর্জাতিক ও ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়। তাছাড়া অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত প্রদর্শনীতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তৈরি পণ্য, চিত্রকর্ম প্রদর্শনী স্থানীয়দের কাছে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আমাদের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় টাউন হল প্রাঙ্গণে বেলুন–ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। পরে একটি রঙিন শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অফিসার্স ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের,জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ,জেলা পরিষদের সদস্য সাথোয়াই প্রু চৌধুরী, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালী উল্লাহ,এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, “প্রতিবন্ধী মানুষ সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের প্রতিভা বিকাশ ও উন্নয়নে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সহায়তা আরও বাড়ানো হবে। আমরা চাই—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত হোক।”

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন প্রতিবন্ধী কল্যাণ কার্ড প্রদান, প্রশিক্ষণ, ভাতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করছে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি। প্রতিবন্ধী নয়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ—এই চিন্তা থেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব।”

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, “অনেক প্রতিবন্ধিতাই প্রতিরোধযোগ্য। মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক সেবা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতা কমানো সম্ভব। হাসপাতালে আমরা বিশেষ সেবা ডেস্ক চালু করেছি এবং ভবিষ্যতে বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো হবে।”

জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, “সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে ভাতা, ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ, শিক্ষাসহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি উদ্যোক্তা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। খাগড়াছড়িতে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন মডেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে।”

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন