ফুলে ফুলে ভরে গেছে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাম্পাস। এ যেন এক স্বপ্নের বাগান। পুরো ক্যাম্পাসে সৌরভ ছড়াচ্ছে নানা রঙের ফুল। যেদিকে তাকায় সেদিকেই বিচিত্র ও বর্ণাঢ্য ফুলের সমারোহ। যেন এখানে জড়ো করা হয়েছে সব ফুল। এসব ফুলের মিষ্টি সুবাসে পাগল পারা কোকিলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আর প্রজাপতিরা। মুগ্ধ ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা। তবে এতো সৌন্দর্যের মধ্যেও হতাশ শিক্ষার্থীরা। কারণ কলেজে অনার্স-মাস্টার্স না থাকায় উচ্চ মাধ্যমিকের পর ছেড়ে যেতে এই প্রিয় ক্যাম্পাস।

১৯৯৯ সালে জেলা শহরতলীর গোলাবাড়ি এলাকায় ৩ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় খাগড়াছড়ি মহিলা কলেজ। পরবর্তী ২০০৩ তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার হাত ধরে কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৯ সালে সরকারীকরণ করা হয় কলেজটি। শুরু থেকে কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক ফলাফল ছিল সন্তোষজনক।
অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের নির্দেশনা ও বাগান মালিসহ কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজটি এখন যেন ফুলের স্বর্গরাজ্য। সবুজ ক্যাম্পাসের ইট-পাথরে গড়া ভবনের আশপাশে সৌরভ চড়াচ্ছে গোলাপ, কৃঞ্চচুড়াসহ রং-বেরঙের বাহারি ফুল। হৃদয় কাড়া ফুলের মন মাতানো সৌরভ আর স্নিগ্ধতায় মুগ্ধ সবাই। ফুলের সৌন্দর্য যেন স্বর্গীয় রূপ ধারণ করেছে পুরো কলেজ ক্যাম্পাস জুড়ে। অ্যাকাডেমিক ভবন-জুড়ে ঝুলে আছে বাগান বিলাসসহ লাল, নীল, হলুদ গোলাপিসহ নানা রঙের ফুলের আভা ছড়িয়েছে চারিদিকে। বিভিন্ন জাতেরও রঙের ফুলে মুড়িয়ে আছে মাঠ আর প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবন, শহীদ মিনার, হোস্টেল ও বাউন্ডারি ঘেরা পুরো ক্যাম্পাস এলাকা।
প্রায় ৩৫ প্রজাতির ফুলের গাছ কলেজ ক্যাম্পাসে। পুরো ক্যাম্পাস যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা নয়ন জুড়ানো সৌন্দর্য মুগ্ধ কোনো ছবি। আর ফুলে সুশোভিত ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীরা আনন্দে মেতে উঠেন। তবে তাদের মধ্যে হতাশাও রয়েছে। এই কলেজে অনার্স-মাস্টার্স না থাকায় মাধ্যমিক পাশের পর তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে হবে। পড়াশুনার মান, হোস্টেলে থাকার সু ব্যবস্থা থাকায় এখানকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা মহিলা কলেজ থেকেই শেষ করতে চান উচ্চ শিক্ষা পাঠদান। ফলে সরকারি মহিলা কলেজে ডিগ্রি, অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালুর দাবি জানিয়েছেন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা।
বাগান মালী আব্দুস সাত্তার জানান, কলেজ অধ্যক্ষের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় তিনিসহ টিটু ত্রিপুরা, আক্যশি মারমাসহ কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কলেজ ক্যাম্পাসটা আজ এত সুন্দর।
খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসাব বিজ্ঞান মো. জহিরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ইংরেজি, কৃতি চাকমা ও প্রভাষক অর্থনীতি মেহেরুন্নিছা বেগম জানান, দৃষ্টিনন্দন বাগানটি গড়ে তুলেছেন অন্য শিক্ষকদের পরামর্শ ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহ আলমগীর। বাগানটির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীসহ সকলেই।
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে, জানিয়েছে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহ আলমগীর বলেন, ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকে ফুলের বাগান করা। শিক্ষার্থীরা যাতে ফুলেল পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।
হোস্টেল, ভবন ও নিরাপদ পাঠদান নিশ্চিত থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দাবি খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর।
