সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :
খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন আহত হয়েছে। একই ঘটনায় একটি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা সদরের শালবন ও কলেজ গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হল, শালবন এডিসি হিল এলাকার মো: মোক্তার হোসেন (৩৫), মো: মাসুদুর রহমান (৩২) এবং কলেজ গেইট এলাকার গোলাম মোলা (৫৫)।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, আহত মো: মাসুদুর রহমান খাগড়াছড়ি পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যা শাহিদা আক্তার‘র পুত্র এবং পেশায় জেলা জজ কোর্টের রাইটার। মা বিএনপি সমর্থক হওয়ায় তার শালবন এলাকার আওয়ামীলীগ সমর্থক বখাটে জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ৭-৮জনের উপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এসময় পথচারী দিনমজুর মোক্তার হোসেনকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এসময় মো: মাসুদুর রহমানের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিও জ্বালিয়ে দেয় তারা।
আহতদের অভিযোগ করেন, বিকাল ৪টার দিকে কোর্ট শেষে বাড়ী ফেরার পথে এডিসি হিল গ্রামে পৌঁছলে ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসলাম উদ্দিনের ছেলে জামালের নেতৃত্বে ৭-৮জনের সন্ত্রাসী গ্রুপ দা, চাইনিজ কুঁড়ালসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ীভাবে কোঁপানো শুরু করে । পরে আত্মরক্ষার্থে দৌঁড়ে পার্শ্ববর্তী গলিতে ঢুকলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে সন্ত্রাসীরা মোটর সাইকেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আহত মোক্তার ডান পা ও বাম হাতে এবং মাসুদুর রহমানের বাম হাতে গুরুতর জখম হয়।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত মোক্তারের ডান পাঁ শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরীভাবে অপারেশন করতে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরদিকে, জেলা শহরের কলেজ গেইট মোহাম্মদপুর এলাকায় বিকাল ৪টার দিকে গোলাম মাওলাকে সন্ত্রাসীরা মাথায় কোপ দিয়ে মুমুর্ষ অবস্থায় ফেলে রাখলে স্থানীয় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি।
অন্য আহতরা খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুরুতর আহত মোক্তার হোসেন দিনমজুর হওয়ায় তার পক্ষে চিকিৎসা ব্যায় নির্বাহ করা অসম্ভব হওয়ায় মোক্তার হোসেন‘র চিকিৎসাসহ দরিদ্র এ পরিবারটির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র মো. রফিকুল আলম।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর শাহিদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে কোন রাজনৈতিক দলের জড়িত নয়। আমি বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় আমার ছেলেকে কাউন্সিলর ইসলাম উদ্দিনের ছেলে আওয়ামীলীগের ক্যাডার জামাল ও জামালের ক্যাডার বাহিনী কুঁপিয়েছে। এ জামাল, সেই জামাল যে পর পর পুলিশের দুই এস.আই কে মেরেছে, সার্কেল এসপি সারোয়ারকে পৌর বিজয় মেলা চলাকালীন অবস্থায় লাঞ্চিত করেছে। গত ৫ জানুয়ারি রাতে এসব আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার বাসাবাড়ীতে হামলা চালায় ‘।
তিনি অবিলম্বে জামালসহ তার ক্যাডার বাহিনীর দোষীদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবীর জানান।
