খাগড়াছড়িতে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

fec-image

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দাবীসহ নানা আয়োজনে খাগড়াছড়িতে পালিত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমএন লারমার) ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে আজ (বুধবার) সকালে খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার ও দীঘিনালা লারমা স্কোয়ারে স্থাপিত এমএন লারমার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন শেষে শোক র‌্যালি বের করে দলীয় নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা।

পরে পৃথক আয়োজিত শোক সভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ে জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা আমৃত্যু আন্দোলর করে গেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে ঘাতকেরা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে হত্যা করলেও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। বক্তারা জুম্ম জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দীঘিনালা উপজেলার সভাপতি মৃনাল কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফুল্ল কুমার চাকমা, কেন্দ্রীয় সদস্য প্রশান্ত চাকমা, জেএসএস নেতা সুমীর চাকমাসহ সংগঠনটি জেলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এছাড়াও সন্ধ্যায় মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে শহীদদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জলন ও ফানুস উড়ানো হবে।

উল্লেখ, ১৯৮৩ সালের এই দিনে খাগড়াছড়ি জেলার ভগবান টিলা এলাকায় আভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে আট সহযোদ্ধাসহ নিহত হন মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ওরফে মঞ্জু(এমএন লারমা)। সে থেকে প্রতি বছর দিনটি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণ জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ওরফে মঞ্জু (এমএন লারমা) ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নির্বাচিত প্রথম সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের সংবিধানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবীতে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। এরপর থেকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭২ সালের ৭মার্চ তাঁর নেতৃত্বে রাঙ্গামাটিতে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির ইটছড়িতে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সংগঠন ‘শান্তি বাহিনী’। এমএন লারমার মৃত্যুর পর তারই ছোট ভাই জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লামরা সংগঠনের দায়িত্ব নেন। সন্তু লারমার নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সংগঠন ‘শান্তি বাহিনী’।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − 3 =

আরও পড়ুন