খাগড়াছড়িতে ৫ কোটি টাকায় ‘পর্যটনবান্ধব’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে

fec-image

পর্যটকদের কাছে আরও আর্কষণীয় করতে অবহেলিত খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ঝুলন্ত ব্রীজ, নন্দনকানন পার্ক, আম্ফি থিয়েটার ও খুমপুই রেস্ট হাউস। এসব প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর পর্যটক সমাগম বাড়ার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন হবে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে রাত্রী যাপনের পাশাপাশি দর্শক গ্যালিরিতে বসে ৫০০ পর্যটক একসঙ্গে পাহাড়ি সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা।

সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ৬শ ফুট উপরে অবস্থিত খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরের এই পর্যটন কেন্দ্রটি ছিল অবহেলিত। দেরীতে হলেও আলুিটিলা পর্যটক কেন্দকে পর্যটন বান্ধব করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তৈরী করা হয়েছে একটি মাস্টার প্ল্যান।

বর্তমানে আলুটিলায় ঝুলন্ত ব্রীজ, ভিউপয়েন্ট, নন্দনপার্ক, আধুনিক রেস্ট হাউস ও এএমপি থিয়েটারসহ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আলুটিলার প্রবেশমুখে ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্বর্ন তোরণের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এসব প্রকল্পে নির্মাণ কাজ শেষ হলে পর্যটন আর্কষণ আরও বাড়বে। দীর্ঘদিন পর হলেও আলুটিলাকে আর্কষনীয় করতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পর্যটকরা।

সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে বেড়াতে আসা পর্যটক অমিত, শাহজাহান, ও সুপ্রিয় বলেন, খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তিবায়িত হলে এটি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষনীয় হবে। পর্যটকরা পাহাড়ে রাত্রী যাপনের পাশাপাশি পাহাড়ি সংস্কৃতি উপভোগ করতে।

খাগড়াছড়ি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক চৌধুরী আতাউর রহমান বলেন, আলুটিলাকে ঘিরে ম্যাউন্টেন ট্যুরিজমের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন পর হলেও আলুটিলাকে ঘিরে অনেকগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে পাহাড়ের পর্যটন অর্থনীতি আরো বিকশিত হবে।

খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি আলটিলা পর্যটন কেন্দ্রের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ জেলার পর্যটন শিল্প আরো বিকশিত হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, খাগড়াছড়িতে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠায় পর্যটনই অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত। তাই পর্যটন অর্থনীতির বিকাশের স্বার্থে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন করা হচ্ছে। অনেক পর্যটক বেড়াতে এসে শহরে রাতযাপন করেন। পর্যটকরা যাতে আলুটিলা পাহাড়ে রাতযাপন করতে পারেন সেজন্য খুমপুই রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হচ্ছে।চারতলার এই রেস্ট হাউস নির্মাণে খরচ হবে দুই কোটি টাকার বেশি। এটি নির্মিত হলে পর্যটকদের আর রাত যাপনের জন্য শহরে ফেরার চিন্তা থাকবে না।

পর্যটকদের পাহাড়ের বৈচিত্রময় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে নির্মাণ করা হচ্ছে অ্যাম্ফিথিয়েটার। সেখানে দর্শক গ্যালিরিতে বসে ৫০০ পর্যটক একসঙ্গে পাহাড়ি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। পর্যটকরা গুহা দেখে ঝুলন্ত সেতুর মাধ্যমে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে পারবেন।চলমান প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আলুটিলায় পর্যটকদের সমাগম আরো বাড়বে বলে মনে করেন জেলর এ শীর্ষ কর্মকর্তা।
প্রতি মাসে অন্তত ৪৫ হাজার পর্যটক আলুটিলা ভ্রমণ করেন। বিশেষ সময়ে তা বেড়ে য্ায় কয়েকগুন।পর্যটনের জন্য এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে খাগড়াছড়িবাসী। এক জেলা প্রশাসকও ইচ্ছে করলে অনেকে কিছু করতে পারেন,সেটি দেখিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine + twenty =

আরও পড়ুন