খাগড়াছড়ির আলুটিলার নতুন রূপে মুগ্ধ পর্যটকরা

fec-image

খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের নতুন রূপে মুগ্ধ পর্যটকরা। বছর না ঘুরতেই নব রূপে সেজেছে খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটক কেন্দ্র। এখন আগের চেয়ে অনেক আকর্ষিত আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র।

সাধারণত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে নয়নাভিরাম নানান দৃশ্য, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা,সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, প্রকৃতি তৈরীর নজরকাড়া হাজারো চিত্র। চার পাশে বিছিয়ে রাখা শুভ্র মেঘের চাদরের নীচে রয়েছে সবুজ বনারাজিতে ঘেরা ঢেউ খেলানো অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়। তার মাঝ দিয়ে চলে গেছে আঁকা-বাঁকা সড়ক। তাকে আরো আকর্ষণীয় করতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

আলুটিলা প্রবেশ মুখে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টি নন্দন গেট। মাত্র দেড় বছরের বছরের ব্যবধানের আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে নির্মিত হয়েছে ঝুলন্ত সেতু, গোলচত্বর, নয়নাভিরাম হাঁটাপথ আর পাহাড়ে ধাপ কেটে তৈরি করা সিঁড়ি। এক সময় আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের একমাত্র আকর্ষণ ছিল প্রাকৃতিক গুহা। কিন্তু এখন গুহা দেখতে আসা পর্যটকেরা পাহাড়ের রূপও উপভোগ করতে পারবেন। উঁচু পাহাড়ের বেদিতে দাঁড়িয়ে দেখতে পারবেন খাগড়াছড়ি শহরের বিস্তার।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের পাশে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬শ ফুট উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে অবস্থিত। প্রায় ২শ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই পর্যটনকেেেন্দ্র তোরণ তৈরি করা হয়েছে নতুন করে। বৌদ্ধ স্থাপত্যে গড়া দৃষ্টিনন্দন তোরণ পার হলেই দুই পাহাড় নিয়ে গড়ে ওঠা পর্যটনকেন্দ্র।

১৮৪ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু দুই পাহাড়কে যুক্ত করেছে। এই সেতুতে আছে কাঁচের ব্যালকনি। পাহাড়ের বাঁ দিকে সড়ক ধরে নামলে দেখা মিলবে প্রাকৃতিক গুহা। ডান দিকের সড়ক দিয়ে নামলে দেখতে পাবেন ভিউ পয়েন্ট কুঞ্জছায়া, আড্ডা দেওয়ার স্থান নন্দনকানন। কুঞ্জছায়া আর নন্দনকাননের সাদা গোলচত্বর বসে খাগড়াছড়ি শহরের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

প্রায় ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্যেও প্রাকৃতিক গুহা পর্যটনকেন্দ্রের আকর্ষণ। গুহা থেকে বেরিয়ে সেতু পার হয়ে নান্দনিক সিঁড়ি বেয়ে দর্শনার্থীরা আসবেন নন্দন কানন ও কুঞ্জছায়ায়। আলুটিলাকে নতুন রূপে দেখে পর্যটকরাও মুগ্ধ।

বৈচিত্রময় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে নির্মাণ করা হচ্ছে অ্যাম্ফিথিয়েটার। সেখানে দর্শক গ্যালিরিতে বসে ৫শ পর্যটক একসঙ্গে পাহাড়ি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। এ ছাড়া চার তলাবিশিষ্ট একটি রেস্ট হাউসও নির্মাণাধীন রয়েছে।

পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য বাড়াতে জন্য জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের উদ্যোগে পর্যটন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনে অর্থায়নে আলুটিলার উন্নয়ন যজ্ঞ চলছে।

২০২০ সালে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় ভিউ পয়েন্ট কুঞ্জছায়া। এরপর তৈরি করা তোরণসহ নানা স্থাপনা। ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে ঝুলন্ত সেতু। আর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে অ্যাম্ফিথিয়েটারের কাজ চলছে। এ ছাড়া কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে চারতলার একটি গেস্টহাউসের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে আগামী এক বছরের মধ্যে আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি রিছাং ঝরনাকেও নতুন রূপে সাজানো হবে।
চলমান প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আলুটিলায় পর্যটকদের সমাগম আরো বাড়বে বলে মনে করেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কে এম ইয়াসির আরাফাত।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খাগড়াছড়ি পর্যটন শিল্পের প্রসার হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস অনন্ত ত্রিপুরা বলেন, মানুষের ইচ্ছা শক্তি থাকলে দায়িত্বেও বাইরেও অনেক কিছু করা যায়। যার প্রমাণ খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি খাগড়াছড়ি জেলাবাসীর জীবনমান উন্নয়নের অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। যা স্বার্ণাক্ষওে লেখা থাকবে।

প্রতি মাসে অন্তত ৪৫ হাজার পর্যটক আলুটিলা ভ্রমণ করে। বিশেষ সময়ে তা বেড়ে যায় কয়েকগুন। পর্যটনের জন্য এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে খাগড়াছড়িবাসী।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 3 =

আরও পড়ুন