প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে গালিগালাজসহ নানা ঘটনার প্রতিবাদে

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় চেয়ারম্যান কাশেমের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

fec-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র ত্রিপুরাকে গালিগালাজের প্রতিবাদে ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে আসতে বাঁধা দেয়া এবং মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্চিত করা অভিযোগে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম ভুঁইয়ার শাস্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ জুলা) মাটিরাঙা উপজেলা পরিষদের হল রুমে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। সাংবাদিক সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে অপসারণসহ শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এসময় পৌর মেয়র শামসুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চাকমা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি হারুন মিয়া, উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য, মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবকাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম শুধু প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ নয়, মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃলা দেবকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করে আসছে। সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে আবুল কাশেম সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গুচ্ছগ্রামে রেশন বিতরণে কম দেয়া, তবলছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নামীয় ৬০ লক্ষ টাকা বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেয়ার দাবি তুলেন উপজেলার ৭ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের মধ্যে ৬ জন চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তৃলা দেবের বিরুদ্ধে অশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য অর্থ আদায়, টিআর, কাবিখা/কাবিটা প্রকল্প থেকে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন আদায়, গুচ্ছগ্রামে কার্ড প্রতি কমিশন আদায়, কার্ডের নামে পরিবর্তনের জন্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায়সহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ঐ উপজেলার তবলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম। সাংবাদিক সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, ইউএনও তৃলা দেব তবলছড়ি ইউনিয়নের ৪টি গুচ্ছগ্রামে ১৩শ ৫২টি কার্ড থেকে ৩৮ টাকা করে মোট ৫১ হাজার হাজার ৩শ ৭৬ টাকা উৎকোচ নিয়েছে। টাকা ছাড়া তিনি রেশন ছাড় দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আমি তা দিতে বাধ্য হয়েছি। এছাড়া সরকারি কোন নির্দেশনা ছাড়া ১৪ জন কার্ডধারীর ৬ মাসের রেশন বিতরণ না করে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে যান।

কিন্তু ২৪ ঘন্টা পার না হতেই গতকাল সোমবার (২৫ জুলাই) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে মাটিরাঙায় মানববন্ধন করেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, চেয়ারম্যান, মাটিরাঙা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + 7 =

আরও পড়ুন