সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যনিউজ :
খাগড়াছড়িতে নির্বাচনোত্তর সহিংসতাকে ঘিরে জেলার পানছড়ি, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গায় উপজেলায় বিএনপির তিনশতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ১৩টি মামলা। এসব মামলায় সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানী করতেই সরকারী দলের নেতাকর্মীরা এসব মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী।
পানছড়ি উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৯ মামলায় বিএনপি’র দু’শতাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনোত্তর সহিংসতা চলাকালে হামলা-পাল্টা হামলা, বিএনপি অফিস, বসত বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উভয় দলের অন্তত: ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তবে দু’পক্ষই সহিংসতায় জড়িত থাকলেও প্রায় দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পানছড়ি থানায় ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, নির্বাচনের পরের দিন খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে শাসক দলের হামলায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো: সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল কায়েস শিমুল আহত হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কিছু বসত বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পানছড়িতে এখনো বন্ধ হয়নি শুরু হওয়া সে সহিংসতা। এ সহিংস ঘটনার জন্য শাসক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরকে দায়ী করছে।
পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুস সামাদ মোড়ল জানান, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পানছড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর প্রত্যেক মামলায় ২০/২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৫/১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচনী সহিংসতায় জেলার মানিকছড়িতে আওয়ামীলীগ অফিসে অগ্নিসংযোগ, হামলা-পাল্টা ও ভাংচুরের অভিযোগে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় শতাধিক ব্যাক্তিকে আসামী করা হয়েছে। এসব মামলায় অনেক নেতাকর্মী জামিনে থাকলেও আওয়ামীলীগ অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির ৪ নেতাকর্মী জেল-হাজতে রয়েছে।
এদিকে প্রত্যেকটি মামলায় এজাহারভুক্ত নেতাকর্মীদের বাইরেও ২০/২৫জন অজ্ঞাত আসামী থাকায় বিএনপির প্রায় সকল নেতাকর্মীর দিন কাটছে গ্রেফতার আতঙ্কে। সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেকেই।
অপরদিকে জেলার মাটিরাঙ্গার তবলছড়িতে সৃষ্ট সহিংসতার জের ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১টি মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে নেতাকর্মীরা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে দায়ের করা মামলায় আরো অনেকের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ আসামী ধরতে নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে তল্লাশী অব্যাহত রেখেছে। গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে তবলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সরকারী দলের নেতাকর্মীরা একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছে অন্যদিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ করেছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবদল নেতা মো: হেলাল উদ্দিন।
সবমিলিয়ে খাগড়াছড়ির এ ৩ উপজেলায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে গ্রেফতার আতঙ্ক। সবাই গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে থেমে নেই পুলিশী অভিযানও।
