খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে পানছড়িবাসীর প্রতিনিধি নিয়োগের দাবী

 

শাহজাহান কবির সাজু, পানছড়ি সংবাদদাতা :

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত একটি জনপদের নাম পানছড়ি উপজেলা। সাপের মতো এঁকেবেঁকে যাওয়া মানচিত্রের এই উপজেলাটি ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। একশত তেতাল্লিশ বর্গমাইল বিশিষ্ট এই জনপদ ঘিরে রয়েছে সাতটি মৌজা। যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বড়ুয়া, চাকমা, ত্রিপুরা, মার্মা ও সাঁওতালরা বসবাস করে।

এই পানছড়ি থেকেই পার্বত্য চট্রগ্রামে ২ যুগের বেশী সময় ধরে চলছিল গেরিলা যুদ্ধ। আবার এই এলাকাতেই অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে গেরিলা বাহিনী। যার ফলে অবসান ঘটে গেরিলা জীবনের, শান্তি আসে পার্বত্য জনপদে। তাই দেশ-বিদেশে শান্তি ও অশান্তি “শুরু এবং শেষের”  উপজেলা হিসাবে পানছড়ি ব্যাপক পরিচিত লাভ করে।

১৯৮৭ সালের ২নং চেংগী ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে পার্বত্য জনপদে শান্তি ফিরে আসার লক্ষে জনসংহতি সমিতি ও সরকারের মধ্যে সংলাপ হয়। যে সংলপের হাত ধরে পরবর্তীতে ১৯৯৭ সনে দুদুকছড়া এবং আরও দফায় দফায় বৈঠকের মধ্যেমে ১৯৯৭ ইং সনের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত হয় ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি। এর ফলে দু’যুগেরও বেশী সময়ের বিরাজমান পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই চুক্তির মূল রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চ প্রশংসিত এবং ইউনেস্কোর মত বিরল আর্ন্তজাতিক পূরষ্কারেও ভুষিত হন। তাই এই উপজেলাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের এমনকি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ।

অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হওয়া সত্বেও আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও নেতৃত্বের বিকাশের ক্ষেত্রে একটি অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ জনপদে পরিণত হয়েছে। আপামর জনগনের দু:খ পার্বত্য জেলা পরিষদে সরকার কর্তৃক মনোনয়নকৃত (আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে) পানছড়ি উপজেলা হতে (চেয়ারম্যান/সদস্য) কোন প্রতিনিধি নিয়োগ প্রাপ্ত হয় নাই। যার ফলে উপজেলাবাসী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এবং উন্নয়ন বঞ্চিত।

পানছড়ি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো: বাহার মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জয়নাথ দেব, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার দেব ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আবু তাহের এ প্রতিবেদককে জানান, পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদন করার অনন্য অবদানের জন্য উপজেলাটিতে সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকার দেয়ার কথা। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা পূর্বে না হলেও আগামীতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার অন্তবর্তীকালীন পরিষদ পূর্ণ:গঠন হলে পানছড়ি উপজেলা হতে যাতে  (চেয়ারম্যান/সদস্য) নিয়োগ দেওয়া হয়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এম.পি ও খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার কাছে জোর দাবী জানিয়েছে পানছড়ির আপামর জনতা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =

আরও পড়ুন