অবশেষে ঘটনার চার দিন পর বৃহস্পতিবার (৯ জুন) খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়ার বাসভবনে হামলা, ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটনার মামলা নিয়েছে পুলিশ। মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ শাতাধিক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রশীদ। যার মামলা নং-৩।
শনিবার (৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ ৩ থেকে ৪ শতাধিক সন্ত্রাসী অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাস ভবনে হামলা চালায়। প্রথমে তারা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারপর খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়ার বাসভবনে হামলা চালায়। ভাঙ্গচুর করে ওয়াদুদ ভূইয়ার প্রাইভেট কার, লাইট পোস্ট ও ঘরের আসবাসপত্র।

ঘটনার রাতেই খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার বাদী হয়ে মামলা করতে যান। মামলায় খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলমকে প্রধান আসামিকরে ৭০ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত দুই থেকে আড়াইশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাস ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করতে গেলে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রশীদ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
অপর দিকে একই দিন রাতে খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় খাগড়াছড়ি জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুব আলম সবুজকে প্রধান করে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ মিছিলের পিছনের অংশে যুবদল নেতা সবুজ হামলা চালায়। হয়। এতে ৫ থেকে ৬ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী আহত হয়।
এদিকে হামলার পর বিএনপির মামলা না নিয়ে উল্টো বিএনপির নেতাকর্মীদেও বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোর ৬ টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে ২৪ ঘন্টা সড়ক অবরোধ পালনের কর্মসূচি দেয় বিএনপি। দাবি মানা না হলে লাগাতার কর্মসূচির হুমকিও দেওয়া হয়।
