যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের ওপর মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজারের লাল পতাকা রাখা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই ওই মাজার প্রাঙ্গণেই তাকে দাফন করা হবে। এরই মধ্যে দেশজুড়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
বিশ্লেষকদের মতে, কফিনের ওপর লাল পতাকা রাখার ঘটনাটি শুধু শোক প্রকাশের নয়, বরং একটি গভীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতীকী বার্তাও বহন করে।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট অ্যান্ড ইসলামিক পলিটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি আল জাজিরাকে বলেন, লাল পতাকাটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (আ.)–এর আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের প্রতীক। সপ্তম শতকে কারবালার প্রান্তরে তার শাহাদাত শিয়া ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং ন্যায়বিচার, ত্যাগ ও প্রতিরোধের আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।
নাদের হাশেমির ভাষ্য, কারবালার সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনার কেন্দ্রে অবস্থান করে। তাই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে ইমাম হুসাইন (আ.)–এর শাহাদাতের প্রতীকী ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।
তার মতে, কফিনের ওপর লাল পতাকা রাখার মাধ্যমে ইরান একদিকে শোক ও আত্মত্যাগের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিরোধের আদর্শকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।
