গাউসপুর সেতু: মৃত্যু পথে যাত্রা, থামানোর কেউ নেই!

fec-image

রাঙামাটি রূপে, গুণে অনন্য হলেও অঞ্চলটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠিন। তাই বর্তমান সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে। তৈরি করা হচ্ছে ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক নির্মাণ। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড, জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি, পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও যতটুকু উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচত্তর ইউনিয়নের গাউসপুর ফরেস্ট অফিস এলাকার একটি সেতু আছে। জনগণের সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে গত ৯০ দশকের শুরুতে উপজেলা সদরের সাথে তিনটি (ভাসান্যাদম, বগাচত্তর, গুলশাখালী) ইউনিয়নবাসীর সড়ক পথে যোগাযোগ গড়ে তুলতে গাউসপুর ফরেস্ট অফিস এলাকায় মাইনী খালের উপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

সেতু নির্মাণের দীর্ঘ বছর পার হওয়ার পর সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত বছর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেতুটি নিয়ে সকল প্রকার যান চলাচল এবং পারাপার বন্ধ করে স্থানীয় প্রশাসন। সেই বছরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো সেতুটি নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।

অত:পর এক বছর পর সেতুটি দিয়ে যাতায়াত পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মানুষ আবারও চলাচল করছে। চলছে মোটরবাইক, বাইসাইকেল। বলা যায়- মৃত্যু পথে যাত্রা তাদের, থামানোর কেউ নেই। সচেতন মহল এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে সেতু নির্মাণ করার দায়িত্ব প্রশাসনের। আর মরণ ফাঁদ থেকে বাঁচতে মানুষকে থাকতে হবে সচেতন। তারা কিভাবে অসচেতনভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে পারাপার করছে তা ভেবে পাচ্ছি না। প্রশাসনও কিভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে অনুমতি দিলো। যদি কোন বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে এর দায়ভার কে নিবে?

লংগদু উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক মুছা বলেন, গত বছর সেতুটি নিয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিলো। সেই সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো সেতুটি তৈরি করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পার হয়ে গেলেও নতুন সেতু নির্মিত হয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক বটে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাইনী খালের প্রবল স্রোতে সেতুটির পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে নড়বরে হয়ে পড়েছে। একটি পিলার ভেঙ্গে গেছে। দুই পাশের রেলিংও ভেঙ্গে গেছে। পাটাতন থেকে কংক্রিটের ঢালাই উঠে গেছে। বলা চলে যোগাযোগের অনুপযোগী সেতু।

উপজেলা সদরের সাথে তিনটি (ভাসান্যাদম, বগাচত্তর, গুলশাখালী) ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো গাউসপুর সেতু। ওই তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের বসবাস। এলাকাগুলোতে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিজিবি’র একটি জোনও রয়েছে।

লংগদু উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মইনুল আবেদিন বলেন, গাউসপুর সেতু নির্মাণ করার জন্য আমরা প্রকল্প পাঠিয়েছি। এই অর্থ বছরে নতুন সেতু তৈরি করার সম্ভবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কাজটি করবেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সেতু দিয়ে কোন যান চলাচল করছে না। সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে পার হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =

আরও পড়ুন