‘গাজায় হত্যা-নৃশংসতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে তিক্ত ঘটনা’

fec-image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ফার্সি নববর্ষ ১৪০৩ উপলক্ষে ইরানি জাতি বিশেষকরে দেশের জন্য আত্ম উৎসর্গকারী ও ত্যাগ স্বীকারকারী পরিবারগুলো এবং অন্য যেসব জাতি নওরোজ পালন করেন তাদের সবার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নতুন বছরকে ‘জনগণের অংশগ্রহণে উৎপাদন বৃদ্ধির’ বছর হিসেবে নামকরণ করেছেন।

আজ ইরানের ফার্সি ১৪০৩ সনের প্রথম দিন। এবারের নওরোজ পবিত্র রমজান মাসে পড়েছে, এ বিষয়টি উল্লেখ করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইরানি জাতি প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক এই উভয় বসন্ত থেকেই কল্যাণ লাভ করতে সক্ষম হবে আশা করছি। ।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মৌলিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে সর্বত্র যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা ছিল মিষ্টতা ও সুসংবাদ। অন্যদিকে মানুষের অর্থনৈতিক ও জীবিকার সমস্যা ছিল তিক্ততার অংশ।

আল-কুদস দিবস এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লব দিবস অর্থাৎ ২২ বাহমানের সমাবেশে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি, নিরাপদে এই বিশাল আয়োজনগুলোর সমাপ্তি, বছরের শেষের দিকে নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজন এবং তাতে জনগণের বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল গত বছরের মিষ্টতা ও সুসংবাদ। তবে শহীদ সোলাইমানির শাহাদাত বার্ষিকীতে কেরমানে সংঘটিত তিক্ত ঘটনা, বছরের শেষের দিকে বেলুচিস্তানের বন্যা, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে নানা তৎপরতা ছিল তিক্ত ঘটনাগুলোর অন্যতম। তবে সবচেয়ে তিক্ত বিষয় হলো গাজা পরিস্থিতি যা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু। গাজায় যা ঘটছে তার চেয়ে বড় তিক্ত ঘটনা গত বছর আর ঘটেনি।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্থনীতি ও রাজনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের তৎপরতা ছিল ইতিবাচক ঘটনা। তবে যেমনটি আগেই বলেছি গাজা পরিস্থিতি ছিল আমাদের জন্য এমনকি বিশ্বের জন্য সবচেয়ে তিক্ত ঘটনা।

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, বিদায়ী ফার্সি ১৪০২ সালে আমাদের স্লোগান ছিল ‘মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি’। এই স্লোগান বাস্তবায়নে অনেক ভালো কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্লোগানের দু’টি অংশ নিয়েই অনেক কাজ হয়েছে, অনেক অগ্রগতি হয়েছে, তবে তা সর্বোত্তম পর্যায়ের ছিল না।

তিনি বলেন, যে বছরটি আমাদের সামনে রয়েছে অর্থাৎ যে বছরটিতে আমরা এরিমধ্যে প্রবেশ করেছি তাতে আমাদেরকে অনেক কাজ করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। এ বছরও আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা হচ্ছে অর্থনীতি। দেশের দুর্বল পয়েন্ট এখানেই। এসব ক্ষেত্রে আমাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ কারণেই গত কয়েক বছর ধরেই আমরা উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করছি। উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি চাইলে অর্থনীতিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে, উৎপাদনের ক্ষেত্রে জনগণের সম্পৃক্ততার পথ ভালো ভাবে খুলে দিতে হবে। তাদের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতির পথে বাধাগুলো অপসারণ করতে হবে।

হজরত ইমাম মাহদি (আ.)’র প্রতি বিনম্র সালাম জানিয়ে এই মহান ইমামের পুনরাবির্ভাব ত্বরান্বিত করতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তিনি বলেন, ইমাম মাহদি (আ.)’র আগমন মানে গোটা মানব জাতির জন্যই মুক্তি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইরান, হামাস
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন