গুইমারায় সপ্তাহে দুইদিন লকডাউন মানা হয়না

fec-image

করোনা সংক্রমণ বর্তমানে খাগড়াছড়ি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পরও বিভিন্ন অযুহাতে গুইমারায় সপ্তাহে দুইদিন লকডাউন মানা হয়না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বারবার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এরপরও গুইমারার রাস্তায় চলে যানবাহন। বাজারে মানুষের উপচেপড়া ভীড়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটার ধুম চলে।

সরকার ঘোষিত করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের কার্যকরিতা সপ্তাহে পাচঁদিন কোনভাবে পালন হলেও অবশিষ্ট দুইদিন, শনি ও মঙ্গলবার লকডাউনের অস্থিত্ব খুজে পাওয়া যায় না।

সচেতন মহল বলছেন, গুইমারা মহাসড়কে লকডাউনের কার্যকরিতা সপ্তাহে পাচঁদিন কোনভাবে ফিটপাট দেখা গেলেও শনি ও মঙ্গলবার হয়ে যায় সদরঘাট।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলমান লকডাউনে সপ্তাহের পাচঁদিন গুইমারা বাজারে কিছু দোকানপাট বন্ধ রাখে। তবে উপজেলার মুসলিমপাড়া, রামছু বাজার আমতলীতে দোকানপাট খোলা থাকে। শনি ও মঙ্গলবার গুইমারা হাটবার, এই দুইদিন গুইমারা বাজারে মানুষের উপচেপড়া ভীড় হতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবারে (৭ জুলাই) প্রায় অর্ধলক্ষ লোক বাজারে কাচাঁমাল, গরু বিক্রি সহ বিভিন্ন কাজে এসেছে। অল্প সংখ্যকের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও অনেককে দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া।কোনও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলছে অনেকে। টমটম, সিএনজি, চাঁদের গাড়ি ও শত শত মোটরসাইকেল যাত্রীবহন করতে দেখা গেছে। ট্রাক, মিনি পিকআপ, ট্রাক্টর মাল বহন করতে দেখা গেছে। বাজারের বেশীর ভাগ দোকানপাট খোলা ছিলো। লকডাউনের কার্যকরিতা পালনের দৃশ্য চোখে পড়েনি। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়নি খুব একটা। বর্তমানে চিকিৎসারত করোনা রোগিও রয়েছে এ উপজেলায় বেশ।

উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় বেশিরভাগ মানুষ করোনা পরীক্ষা করে না। জ্বর, সর্দি, কাশি হলে গ্রাম্য ডাক্তারদের মাধ্যমে চিকিৎসা করছেন। হাতে গোনা অল্প কিছু লোক পার্শ্ববর্তী উপজেলা রামগড় ও মাটিরাঙ্গা গিয়ে পরীক্ষা করান। বাজারে এত লোকের সমাগম নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনরা।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর কঠোর হওয়ার জন্য ফের লকডাইনের ঘোষণা দেয় সরকার। পুলিশ স্বাস্থ্য বিধি মানার বিষয়ে হ্যান্ড মাইক দিয়ে প্রচার করলেও বাস্তবে চলছে ভিন্ন চিত্র। সকাল বেলা গরু বাজারসহ বাজারের সবগুলো গলিতে মানুষের ভিড় ছিলো বেশ। মানুষজনের মুখেও মাস্ক দেখা যায়নি। তবে মঙ্গলবার বিকাল বেলায় প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেছে কিছুটা।

বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ও সিএনজি চালক জানান, এখন পর্যন্ত সরকারী কোন ত্রাণ তারা পাননি। গাড়ির ভাড়া দিতে হয়। সংসার চালাতেই গাড়ি চালান তারা।

গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে পুলিশ কাজ করছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 3 =

আরও পড়ুন