গুইমারা উপজেলা প্রতিষ্ঠার সাত বছর, গড়ে উঠেনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পোল্ট্রি খামারী

fec-image

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা প্রতিষ্ঠার সাত বছর। এখনো গড়ে উঠেনি উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম। ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, ভূমি অফিসের সেবা নিতে হয় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে। ফায়ার সার্ভিস না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে ক্ষতি হয়েছে অনেকের। অগ্নিকাণ্ডের সময় বা পরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চিত্র দেখা গেলেও, দেখা যায়না বেশির ভাগ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের।

গত এক বছরে গুইমারা উপজেলার ডাক্তার টিলা, দার্জিলিংপাড়া, ইন্দ্রমনি পাড়া, বটতলী মাস্টার পাড়া গুইমারা বাজারসহ মোট নয়টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ আলী, পেশায় সে একজন খামারী। পরিবারে সদস্য সংখ্যা আটজন। ঋনের টাকায় আয়ের একমাত্র উৎস হিসেবে গড়ে তোলেছিলেন একটি পোল্ট্রি র্ফাম। ঈদের আগে গত বুধবার সকালে দূর্ভাগ্যক্রমে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাইঁ হয়ে গেছে তার ওই ফার্মটি।

এসময় ফার্মের ভিতরে থাকা প্রায় ১৬০০ মুরগির বাচ্চা ও মুরগির খাদ্য পুড়ে চার লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে তার। এমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দিশেহারা খামারী মোহাম্মদ আলী।কারণ সবগুলোই ছিলো ঋনের টাকা। এই অগ্নিকাণ্ড ঈদের আগে তার পরিবারে উঁকি দেয় দূর্দশার কালো ছায়া। বর্তমানে ঋনের বোঝা, অন্যদিকে পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে সে। পায়নি সরকার, জনপ্রতিনিধি বা কোন বিত্তশালীর নিকট থেকে সহযোগিতা। পাবে কিনা জানেও না, তবে আশায় আছে। তার ধারনা কেউ তো এগিয়ে আসবেই। নাহলে বুড়ো বয়সে সন্তানদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াবে সে। ইতিমধ্যেই সহযোগিতার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন দিয়েছেন। এমনটাই জানান মোহাম্মদ আলী। আর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার হাফছড়ির আকবরের দোকান এলাকায়।

 

অগ্নিকাণ্ডের সময় যুব রেডক্রিসেন্ট গুইমারা উপজেলা ইউনিট, ছাত্রলীগের কর্মী এবং স্থানীয় জনগন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায় তার।

হোসেন মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, ২০১৪ সালে গুইমারা উপজেলা হিসেবে গঠিত হলেও ভবনের অভাবে গত ৭ বছরেও গড়ে উঠেনি উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম। উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে মোহাম্মদ আলীর এমন ক্ষতি হতোনা। পার্শ্ববর্তী উপজেলা রামগড় থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে আসতে সবকিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। অনেক আশা নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচিতরা দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন করতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্থদের কোন খোঁজ খবরও নেন না।

এছাড়াও কিছুদিন আগে ডাক্তার টিলা এলাকায় স্বামী পরিত্যাক্তা নুরবানু বেগমের বসতঘর সহ যাবতীয় পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। ওই পরিবারটিও বর্তমানে মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছে।

হাফছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গুইমারায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি হচ্ছে। একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে এমন দূর্ঘটনাগুলোর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতো। উপজেলা প্রতিষ্ঠার সাত বছর, এখনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন গড়ে উঠেনি। এ বিষয়ে সকলের নজর দেওয়া দরকার বলে তিঁনি মনে করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + five =

আরও পড়ুন