কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় অন্তত ৪০জন বাসের যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন বলে জানাগেছে।
সোমবার (৮ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া মহাসড়কের ঢালায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ দুই জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন মালুমঘাট হাইওয়ে থানার (ওসি) মাহাবুব আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানান,কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার এভারগ্রিন পরিবহনের এসি বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা চকরিয়া সার্ভিস নামে একটি মিনি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসের সম্মুখভাগ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মিনিবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে বাসের উপরের চালা রাস্তায় আর গাড়ির বডি সড়কের পাশে ফুটপাতে চলে যায়। অন্যদিকে এভারগ্রীণ এসি পরিবহণের স্লিপার বাসটি গাছের সাথে আটকে থাকে।
ঘটনাস্থলেই লোকাল বাসের চালক আলম ও এক শিশু মারা যায়। এতে দুটি বাসের অন্তত ৪০জন যাত্রী আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতাল ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে নারী যাত্রীসহ কয়েকজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে জানান হাইওয়ে পুলিশ।
এদিকে, দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার কারণে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দীর্ঘ যানজটে পরিণত হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। সড়কে একঘন্টা পর্যন্ত সকলের ধরণের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে মালুমঘাট হাইওয়ে থানার পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে মহাসড়কের যানচলাচল স্বাভাবিক করেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এভারগ্রীন বাসের যাত্রী সাঈদ বলেন, আমার মা নূর আয়শাকে নিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে হার্টের চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলাম। সাথে আমার বোন ফারজানা ও মামা ফয়েজ আহমদও ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমরা সবাই আহত হয়ে এখন নিজেরাই রোগীতে পরিণত হয়েছি।
মহাসড়কের মালুমঘাট হাইওয়ে থানার (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে বাসে থাকা অনেক যাত্রী আহত হয়। বাস দুটি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
