চকরিয়ার যৌথবাহিনীর ওপর হামলা, সাংবাদিক, বিজিবিসহ আহত ৫০


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর ও লামার ময়ূরঘোনা-পাগলীপাড়া এলাকায় অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার পথে ইটভাটা শ্রমিকদের সাথে যৌথবাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২০নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের পাহাড়তলী বাদশারটেক এলাকায় চলে এ সংঘর্ষের ঘটনা। হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিতে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, গাড়ি ভাঙচুর ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে সাংবাদিক, বিজিবি, পুলিশ সদস্য ও শ্রমিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পরিচালিত স্পেশাল অভিযানে নেতৃত্ব দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজুয়ান উল ইসলাম। তার সাথে ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর হাফিজ, লামা সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ, লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং পরিবেশ অধিদপ্তর অংশ নেয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার মানিকপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা একাধিক ইটভাটা নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন, পাহাড় কাটা ও অনুমোদন সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী সকাল ১০টার দিকে অভিযানে রওনা দিলে কাকারা ইউনিয়নের বাদশারটেক এলাকায় ইটভাটা মালিক-শ্রমিকরা তাদের রাস্তা আটকে দেয়। শ্রমিকরা ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দিয়ে পথ গতিরোধ করে এবং অভিযানে বাঁধা সৃষ্টি করলে এলাকার মধ্যে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয় এবং সংঘর্ষে বিজিবির একটি সরকারি গাড়িসহ অন্তত ৬টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসময় দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমের কয়েকজন সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ গোটা এলাকায় দৌড়াদৌড়ি আর ইটপাটকেলের ঝড় শুরু হয়। কে কাকে আঘাত করছে বোঝার সুযোগই ছিল না। ইটভাটা ফোর বিএম-এর মালিক মাষ্টার খাইরুল ইসলাম ও ইউবিএম-এর মালিক দিদারুল ইসলাম দাবি করেন- ৯৬০৬/২২ এবং ১৩১৯১/২২ নম্বর রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পরিবেশ দূষণমুক্ত স্থান চিহ্নিত করে ইটভাটা সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসককে ৬ মাস সময় দেন। কিন্তু তিন মাস পার হলেও প্রশাসন জায়গা চিহ্নিত করে দেয়নি। বরং উচ্ছেদের নামে মালিক–শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। তারা আরো বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে আমরা আরও ৩ মাস সময় চেয়েছি। ওই সময়ের ভেতরে ভাটা না সরালে জরিমানা মেনে নেব এ কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ঘোষণা ছাড়াই আজ হঠাৎ অভিযান চালানো হয়।
শ্রমিকদের একটি অংশ অভিযোগ করে বলেন, আগাম কোনো ঘোষণা ছিল না। ভাটা বন্ধ হলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে সে কথা কেউ ভাবেনি। কথা বলতে গেলে হঠাৎ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়।
লামার ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) জাবেদ মাহমুদ বলেন, এলাকার ইটভাটাগুলো পুরোপুরি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চালাতে গেলে শ্রমিকদের একটি অংশ হামলা করে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। সংঘর্ষের পর যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে মো.আরাফাতসহ ৮ জনকে আটক করেন। পুলিশ জানায়, মূলত আটক আরাফাত শ্রমিকদের উসকে দেওয়ার ভূমিকা রেখেছিল।
চকরিয়া পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এম.আর. মাহমুদ বলেন, মানিকপুর–ফাইতং এলাকায় বেশ কয়েকটি ভাটা দীর্ঘদিন পাহাড়ের মাটি কেটে ইট উৎপাদন করে আসছিল। বহু অভিযোগের পরও ভাটা বন্ধ হয়নি। অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে শ্রমিকদের পুনর্বাসন ছাড়া হঠাৎ অভিযান চালানোয় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ বলেন, ইটভাটা মালিক, শ্রমিকেরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।

















