৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১

চকরিয়ায় কিশোর খুনের রহস্য উদঘাটন

fec-image

চকরিয়ায় ক্রিকেট খেলার বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে আনাস ইব্রাহিম (১৮) নামে এক স্কুল ছাত্রকে খুন হয়েছেন। শনিবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ১০টার দিকে চকরিয়া পৌর শহরের বিপণী বিতান ওয়েস্টার্ন প্লাজার ভেতরে একটি জুতার দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় বন্ধু আনাসকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছে একই এলাকার আবদুল্লাহ নামে আরেক কিশোর।

নিহত আনাস ইব্রাহিম চকরিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিনামারা গ্রামের হাফেজ নেছার আহমদের ছেলে। সে সদ্য এসএসসি পাশ করেছে। পরীক্ষার ফলাফলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে আনাস। পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলো আনাস। বর্তমানে চকরিয়া পৌর ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। তবে ইতোপূর্বে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলো।

নিহত আনাসের বাবা হাফেজ নেছার আহমদ চট্টগ্রামের কাপাসগোলা জামতলা শাহী জামে মসজিদের খতিব। তাঁর মা তছলিমা জান্নাত চকরিয়া পৌরসভার নিজপানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রবিবার (২৬ মে) চকরিয়া থানায় নিহতের বাবা হাফেজ নেছার আহমদ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু করেছেন।

মামলার এজাহারে ৬ জনের নাম উল্লেখ ও আরো ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করেছেন।

এজাহারনামীয় আসামিরা হলো- চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেম মাস্টার পাড়ার জসিম উদ্দিনের ছেলে শোয়াইবুল ইসলাম রুবেল, রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল, জাকের আহমদের ছেলে মোহাম্মদ বাবু, নাজিম উদ্দিনের ছেলে সালাহ উদ্দিন, ইসমাইল বাবা অজ্ঞাত ও সামসুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ রিয়াজ।

আসামীদের মধ্যে পুলিশ ঘটনার পরপর অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ রিয়াজ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছেন।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাতে নিহত আনাস ইব্রাহিম ঈদের শপিং করার জন্য তার বন্ধু আবদুল্লাহকে নিয়ে চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গায় আসে। তারা রাত ১০টার দিকে চকরিয়া শহরের ওয়াপদা সড়কের বিপণী বিতান ওয়েস্টার্ন প্লাজায় ঢুকছিলো। এসময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান করতে থাকা ৮-১০ জনের একটি দুর্বৃত্তল দল তাদের গতিরোধ করে অতর্কিত ধারালো ছুরি নিয়ে আঘাত করতে থাকে আনাস ইব্রাহিম ও আবদুল্লাহকে। এতে আনাসের পেটে ছুরিকাঘাতে নাড়ি-ভুরিও বের হয়ে যায়। আর আবদুল্লাহকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা।

নিহত আনাসের স্বজনরা জানায়, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালাকাটা কাশেম মাস্টার পাড়ার রুবেলের সঙ্গে আনাসের মধ্যে ক্রিকেট খেলার একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এনিয়ে সম্প্রতি দুইজনের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। সেই যাত্রায় আনাস বেঁচে যায়। কিন্তু রুবেল তখন থেকেই সুযোগ খুঁজছিল আনাসকে মারতে। সেই ধারাবাহিকতায় আনাস ঈদের শপিং করতে চিরিঙ্গা আসলে দলবল নিয়ে রুবেল সশস্ত্র অবস্থায় হামলে পড়ে আনাস ও তার বন্ধু আবদুল্লাহর ওপর।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এলাকায় ক্রিকেট খেলার বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে।

ওসি বলেন, হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাফেজ নেছার আহমদ বাদি হয়ে রবিবার থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেছেন। মামলার অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

অপরদিকে চকরিয়া থানা পুলিশের পাশাপাশি কিশোর আনাস খুনের নৈপথ্য উৎঘাটন ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার জেলা ইউনিটের একটি দল। পরির্দশক মেজবাহ আহমদের নেতৃত্বে পিবিআই পুলিশের একটিদল রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও চকরিয়া থানা পুলিশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার দুপুরে গ্রামের বাড়িতে আনা হয় কিশোর আনাস ইব্রাহিমের মরদেহ। এরপর বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদের পাশে মগবাজার পৌর কমিউনিটি সেন্টার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর নামাজে জানাযা। এতে দলমত নির্বিশেষে হাজারো শোকাহত মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে স্থানীয় মসজিদ কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। নামাজে জানাযা শেষে সমবেত সকল স্তরের জনতা কিশোর আনাস ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক আইনের মাধ্যমে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিলটি চকরিয়া উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু হয়ে চকরিয়া থানা পয়েন্টে এসে শেষ হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − thirteen =

আরও পড়ুন