চকরিয়ায় তিনটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখলেন ইউএনও তাবরীজ

fec-image

চারমাসের ব্যবধানে কক্সবাজারের চকরিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তিনটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিয়ে সর্বমহলে প্রশাসনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ। বিসিএস প্রশাসন ৩০তম ক্যাডারের চৌকষ এ কর্মকর্তার অধীনে গেল সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি পৌরসভা ও উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত চকরিয়া পৌর পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচন কমিশন ২০২১ সালের মে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন। অবশ্য করোনাকালীন সংকটের কারনে নির্বাচন কমিশন চকরিয়া পৌরসভার নির্বাচন দুইদফা তারিখ পরিবর্তন করেন। সর্বশেষ তফসিলের আলোকে গেল ২০ সেপ্টেম্বর ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন। ওই নির্বাচনে রির্টানিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সামসুল তাবরীজ।

এরপর গত ২৮ নভেম্বর ততৃীয়ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর, কাকারা, কৈয়ারবিল, সাহারবিল, পুর্ববড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, বিএমচর ও কোনাখালীসহ ১০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সর্বশেষ গত ২৬ডিসেম্বর চতুর্থধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলার বাকি হারবাং, বরইতলী, ফাসিয়াখালী, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, চিরিঙ্গা, ডুলাহাজারা ও খুটাখালীসহ ৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। জানা গেছে, দুইদফায় অনুষ্ঠিত চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরীজ।

কক্সবাজারের অন্যতম বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জনপদে সাত লাখ জনগনের বসবাস। আলোচ্য বিষয় হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে চকরিয়া উপজেলার প্রতিটি জনপদে সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। বিশেষ করে নির্বাচনগুলোতে প্রভাবশালী ও সম্পদশালী অনেকে প্রার্থী হওয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এসব নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে কী না তা নিয়ে জনমনে ছিল একধরণের ভীতি। এ নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আশঙ্কার কথা জানিয়ে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানাতো।

আশার কথা হলো নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জনমনের এতসব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দুর করতে প্রায় সময় মাঠে থেকে সর্বসাধারণকে নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিতের অভয় দিয়েছিলেন ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরীজ। তিনি অবশ্য যথারীতি কথাও রেখেছেন অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনে। এরই অংশহিসেবে তিনি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ এর দিকনির্দেশনায় অবশেষে চারমাসের ব্যবধানে চকরিয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে শান্তিপুর্ণ নির্বাচন উপহার দিয়ে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন।

নির্বাচনী সুষ্ঠ পরিবেশ নিয়ে প্রশংসা করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চকরিয়া উপজেলার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক একেএম সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের চৌকষ কর্মকর্তা ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরীজের অধীনে অনুষ্ঠিত চকরিয়া উপজেলার তিনটি নির্বাচনে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হয়নি বড়ধরণের কোন সংঘাত সহিংসতা। তিনি দক্ষতা গুনে প্রতিটি নির্বাচন প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সুচারুভাবে সমাপ্ত করে চকরিয়া উপজেলার নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছেন। অবশ্য ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছু অভিযোগ আপত্তি থাকলেও তা ছিল বিজীত প্রার্থীদের নিছক মনোবেদনা।

একই ধরণের অভিমত জানালেন চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম আর মাহমুদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কালীন সময়ে জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় সহিংসতা ও খুনোখুনিও মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেইক্ষেত্রে চকরিয়া উপজেলার তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে অনেকটা রক্তপাতহীন। যেটি চেয়েছিলেন মান্যবর জেলা প্রশাসক। মূলত ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরীজ তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমেই চকরিয়া উপজেলাবাসিকে শান্তিপুর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন।
এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ চলতিবছরের ২৬ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ পদোন্নতি দেয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব কে এম আল আমীন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে চকরিয়ার ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজকে নোয়াখালী জেলায় এডিসি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এদিকে ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ এর পদোন্নতির খবরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১ বছর ৬ মাস পর পদোন্নতি হলেও তিনি এখনো চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৮ মাস সময়ে তিনি চকরিয়া উপজেলায় প্রশাসনিক সেক্টরে সেবা, ছাড়াও ভুমি জটিলতা নিরসনে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষাখাতে আমুল পরিবর্তন এসেছেন। পাশাপাশি উপজেলার আত্মসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন যুগোপযোগী প্রদক্ষেপ গ্রহণ এবং করোনাকালীন দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁিড়য়ে ইউএনও হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। একইভাবে তিনি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ তহবিল থেকে নতুন ঘর উপহার দিয়ে অল্পসময়ে সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন।
এরই অংশ হিসেবে তিনি জাতীয় শুদ্ধাচার-২০২১ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্বাচিত হন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + seventeen =

আরও পড়ুন