বিরোধিতা নয় বরং

মুরং সম্প্রদায়ের লোকেরাই এখন চন্দ্রপাহাড়ে আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট চাইছে

fec-image

চন্দ্র পাহাড় পর্যটনের নতুন আকর্ষণ

বান্দরবানের চন্দ্র পাহাড়ে রিসোর্ট নির্মানের বিরোধিতা নয় বরং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ম্রো সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেরাই চাইছে এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট  হোক। চন্দ্র পাহাড়ের রিসোর্ট হলে স্থানীয় ম্রোদের জীবনমানের উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি প্রভৃতির উন্নয়ন ঘটবে বলে ম্রো সম্প্রদায়ের লোকেরাই এখানে আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট দাবী করছে। সম্প্রতি ঢাকা থেকে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের একদল সাংবাদিক প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশ্যে চন্দ্রপাহাড়ের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গেলে স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের কাছে এ দাবী করেন বলে জানা গেছে।

চন্দ্রপাহাড় সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ফিরে আসার পর তাদের প্রকাশিত রিপোর্টেও এ তথ্য পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের কাছে স্থানীয় মুরং কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ম্যানথল মুরং বলেন, ‘আমরা সাধারণ পাহাড়িরা কোনো রক্তপাত বা সংঘর্ষ চাই না। আমরা চাই এলাকার উন্নয়ন, ভালো আয়-রোজগার। চন্দ্রপাহাড় নিয়ে মূলত পাহাড়ের স্বার্থান্বেষী এক বা একাধিক গোষ্ঠী নোংরা খেলায় নেমেছে। তাদের হয়ে আবার কাজ করছে ঢাকার কথিত কিছু বুদ্ধিজীবী। যদিও ঢাকার ওইসব বুদ্ধিজীবী কখনই সরেজমিন এই চন্দ্রপাহাড়ে আসেননি। তারা শিখিয়ে দেওয়া মতোই বলে যাচ্ছেন।’

ওই এলাকার বাসিন্দা ও বান্দরবান সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মেহ্লা সিং শুদ্ধভাবে বাংলায় সময়ের আলোকে বলেন, ‘বন্ধুদের উৎসাহে কিছুদিন আগে চন্দ্রপাহাড় বিরোধী একটি মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে বিস্তারিত জেনে সেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসি। কেননা আমরা লেখাপড়া শিখছি। এখানে আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট হলে নানা ক্ষেত্রেই আমাদের কর্মসংস্থান হবে। ওই রিসোর্ট ঘিরে আরও নানা খাতের উন্নয়ন হবে। আমাদের মধ্যে যারা অতি দরিদ্র আছে তারাও ভালো আয় করতে পারবে। তাই এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে হবে। চন্দ্রপাহাড় রিসোর্ট আমাদের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটা বরং আশীর্বাদ।’ (সময়ের আলো)

চন্দ্রপাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে পাশ্বব‌র্তী কালেঙ্গা ইউনিয়ন প‌রিষদের ৬ নং সদস্য অর্জুন ম্রো ব‌লেন, এখানে কোনো বস‌তি ছিল না। পাহাড়‌টি থেকে দেড় কিলো‌মিটার দূরে এক‌টি ম্রো পল্লী আছে। সেখানে ৩০টি প‌রিবার আছে। তাদের কোনো উচ্ছেদের প্রশ্নই আসে না।

অর্জুন ম‌নে ক‌রেন, পাঁচ তারকা হোটেল হলে তাদের লাভ হবে। এখন এক মণ পেঁপে তারা ৫০০ টাকায় বি‌ক্রি করেন। কিন্তু  এ অঞ্চলে পর্যটকরা এলে প্রতিটি বড় আকারের পেঁপে তারা ১০০ থে‌কে ১৩০ টাকা বি‌ক্রি করতে পার‌বেন। তবে তি‌নি আশঙ্কা করেন, দূরে বাস করলেও জুম চা‌ষের জন্য পাহাড়ে আগুন দিলে ধোঁয়া ও উত্তাপ আসতে পা‌রে।

তি‌নি জানান, হেডম্যান ও কারবা‌রীরা নিরীহ ম্রো সম্প্রদা‌য়ের লোকদের মধ্যে জুম চাষের জন্য পাহাড় ভাগ করে দেন। হোটেল থেকে দূরব‌র্তী কোনো পাহাড়ে আগুন জ্বালানোর সুযোগ দিলে ওই প‌রিবারগু‌লোর সু‌বিধা হবে।

ইউপি মেম্বার অর্জুন আরও বলেন, পাঁচতারা হোটেল ও রাস্তা হওয়ায় তারা খু‌শি। এতে তাদের এলাকার গ‌রিব মানুষের উপকার হ‌বে। তবে হোটেলটির জন্য ২০ একর জায়গা লিজ দেয়া হলেও ভ‌বিষ্যতে যেন জায়গার প‌রিমাণ বাড়ানো না হয়।

তি‌নি জানান, ম্রো সম্প্রদায় খুবই গ‌রিব। তি‌নি নিজেও দরিদ্র মানুষ। তাই সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য মিশনারিদের সাহা‌য্য পেতে বৌদ্ধ ধর্ম ছেড়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন অর্জুন।(যুগান্তর)

কাপ্রুপাড়ায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের বাসিন্দা পিয়োং ম্রোর সঙ্গে। মারমা ভাষায় কথা বলে অভ্যস্ত হলেও অনুরোধে তিনি বাংলায় কথা বলেন। এ সময় পিয়োং ম্রো গনমাধ্যমকে বলেন, ‘পেপার, বেসবুকসহ আমাদের পাহাড়ি কিছু লোকের মুখে শুনেছি ১ হাজার একর জমিতে হোটেল নির্মাণ করা হচ্ছে। পাহাড়িদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা এই চন্দ্রপাহাড়ে কখনই কাউকে বসবাস করতে দেখিনি। এটা এতটাই উচুঁ এবং দুর্গম ছিল যে, আমরা কেউই এদিকে আসার চিন্তাও করিনি। এখানে রিসোর্ট তৈরির কাজ শুরু হলে কৌতূহলেই একাধিকবার এসেছি। আর এসেই সব ধারণা পাল্টে গেছে। মাত্র ২০ একর জায়গার স্থলে এতদিন জেনে আসছিলাম হাজার একর। কেউ কেউ বলেছে যে, পাহাড়ের জুম চাষ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় হবে। কিন্তু এত উঁচুতে কখনও জুম চাষ করা হয় না। জুম চাষ মূলত ছোট পাহাড়ের গায়ে চাষাবাদ হয়ে থাকে। এই চন্দ্রপাহাড় নিয়ে মূলত আমাদের কিছু মানুষকে কাজে লাগিয়ে কোনো মহল স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। রিসোর্টের বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে সবকিছুর নেপথ্যে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এই রিসোর্ট হলে আমরা স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবো। তাই এই দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

স্থানীয় মুরং কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ম্যানথল মুরং গনমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা সাধারণ পাহাড়িরা কোনো রক্তপাত বা সংঘর্ষ চাই না। আমরা চাই এলাকার উন্নয়ন, ভালো আয়-রোজগার। চন্দ্রপাহাড় নিয়ে মূলত পাহাড়ের স্বার্থান্বেষী এক বা একাধিক গোষ্ঠী নোংরা খেলায় নেমেছে। তাদের হয়ে আবার কাজ করছে ঢাকার কথিত কিছু বুদ্ধিজীবী। যদিও ঢাকার ওইসব বুদ্ধিজীবী কখনই সরেজমিন এই চন্দ্রপাহাড়ে আসেননি। তারা শিখিয়ে দেওয়া মতোই বলে যাচ্ছেন।’

ওই এলাকার বাসিন্দা ও বান্দরবান সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মেহ্লা সিং শুদ্ধভাবে বাংলায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বন্ধুদের উৎসাহে কিছুদিন আগে চন্দ্রপাহাড় বিরোধী একটি মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে বিস্তারিত জেনে সেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসি। কেননা আমরা লেখাপড়া শিখছি। এখানে আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট হলে নানা ক্ষেত্রেই আমাদের কর্মসংস্থান হবে। ওই রিসোর্ট ঘিরে আরও নানা খাতের উন্নয়ন হবে। আমাদের মধ্যে যারা অতি দরিদ্র আছে তারাও ভালো আয় করতে পারবে। তাই এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে হবে। চন্দ্রপাহাড় রিসোর্ট আমাদের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটা বরং আশীর্বাদ।’ (সময়ের আলো)

একদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের এহেন সংবাদ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ শ্রেণীর অপপ্রচার। ফলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এই রিসোর্ট সম্পর্কে যেসব তথ্য পেয়েছি সেগুলো পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য এই লেখার অবতারণা।

বান্দরবানের চন্দ্রপাহাড়কে যেন প্রকৃতি তার আপন হাতে সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ করেছে। এই পাহাড়ে দাঁড়ালে দেখা যায় উপরে বিস্তৃত নীল আকাশ আর নিচে সবুজের গালিচা। দৃষ্টি নন্দন এই পাহাড়ে আন্তর্জাতিক মানের রির্সোট নির্মিত হলে তা এই এলাকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করবে। যথাযথ পরিকল্পনা করে এই এলাকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করতে পারলে দেশীয় পর্যটকদের সাথে পাশ্ববর্তী দেশসমূহ থেকে প্রচুর পর্যটক এর আগমন ঘটবে। একই সাথে স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের জনগনও এর সুফল ভোগ করবে। তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্যমূল্যে আগত পর্যটকদের নিকট বিক্রি করে লাভবান হবে। সামগ্রিকভাবে যা আমাদের দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বান্দরবান জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশ ও স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে অত্র জেলার চন্দ্রপাহাড়ে একটি বিশ্বমানের রিসোর্ট নির্মাণের জন্য আর এন্ড আর হোল্ডিং লিমিটেড এবং আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিনিধি হিসেবে সদর দপ্তর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড এর মধ্যে গত ১২ জুন ২০১৬ তারিখে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উল্লেখ্য, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ২০ (বিশ) একর ৩য় শ্রেণীর জমি পর্যটন কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনার নিমিত্তে বান্দরবান সেনা রিজিয়ন এর অনুকূলে লিজ প্রদানের উদ্দেশ্যে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে চুক্তিবদ্ধ হয়। উক্ত চুক্তিতে বর্তমান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী স্থাপনা নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট ভূমি উন্নয়নে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না। পর্যটন শিল্প বিকাশে জনস্বার্থ পরিপন্থী কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ এবং স্থানীয় উপজাতিদের জীবনযাপন ও আচরণ বিঘ্নিত করে, এরূপ কার্যক্রম চুক্তির আওতাভূক্ত করা হয়নি। পর্যটন শিল্প পরিচালনায় ও ব্যবস্থাপনায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। বর্তমানে উক্ত স্থানে একটি উন্নতমানের হোটেল নির্মাণের কার্যক্রম চলমান। পাহাড়ের সৌন্দর্য ও প্রকৃতি ঠিক রেখে উন্নত নির্মাণশৈলীর আদলে রিসোর্ট তৈরী করা হবে। উক্ত জায়গাটি একটি তৃতীয় শ্রেণীর জায়গা এবং বসবাসের অযোগ্য, উক্ত জায়গাটিতে কোন রাস্তাঘাট, পানি, বিদ্যুৎ সংযোগ তথা কোন নাগরিক সুবিধা নেই। উক্ত এলাকাতে লোক বসবাস করে না। ঐ এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র স্থাপিত হলে পরিবেশের উপর কোন বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে চন্দ্রপাহাড় রিসোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন, প্রয়োজনীয় রাস্তাসহ আনুসঙ্গিক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রকল্প এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে।

পার্বত্য বান্দরবান জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্প বিরোধী কিছুসংখ্যক স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়া অপ্রচার করে আসছে যে, পাবর্ত্য চট্রগ্রামের বান্দরবান জেলার বান্দরবান-চিম্বুক-থানচি সড়কের ডান পার্শ্বে চিম্বুক পাহাড়ের কোলে ৩০২ নং লুলাইং মৌজা এবং ৩০৫ নং সেপ্রু মৌজায় কাপ্রু পাড়া, দোলাপাড়া, এরাপাড়া ও শোং নাম হ্লং পাড়ায় (যা চন্দ্র পাহাড় নামে পরিচিত) অন্তত ১০ (দশ) হাজার ম্রো জনগোষ্ঠীর বসবাস। কিন্ত সরেজমিনে পরিলক্ষিত হয় যে, উক্ত চন্দ্র পাহাড় এলাকায় মাত্র ৪ (চার) টি ম্রো পাড়া রয়েছে। চন্দ্রপাহাড়ের নিকটবর্তী পাড়াগুলোর নাম যথাক্রমে কাপ্রুপাড়া, দোলাপাড়া, কালাইপাড়া এবং এরাপাড়া। চন্দ্রপাহাড় হতে কাপ্রু পাড়া উত্তর-পশ্চিমে ৩.৫ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্থিত এবং পাড়ায় সর্বমোট ৪৮ টি পরিবারের বসবাস ও মোট জনসংখ্যা ৩২০ জন। চন্দ্রপাহাড় হতে দোলাপাড়া

পূর্ব-দক্ষিণে ২.৫ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্থিত এবং পাড়ায় সর্বমোট ২০ টি পরিবারের বসবাস ও মোট জনসংখ্যা ১২০ জন। চন্দ্রপাহাড় হতে কালাইপাড়া পূর্বে ৫ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্থিত এবং পাড়ায় সর্বমোট ৩৭ টি পরিবারের বসবাস ও মোট জনসংখ্যা ২৫০ জন। চন্দ্রপাহাড় হতে এরাপাড়া উত্তরে ৫ কিঃমিঃ দূরত্বে অবস্থিত এবং পাড়ায় সর্বমোট ১৯টি পরিবারের বসবাস ও মোট জনসংখ্যা ১২৭ জন। বর্তমানে উক্ত চন্দ্রপাহাড় এলাকায় সর্বমোট ১২৪ টি পরিবারের এবং ৮১৭ জন ম্রো জনগোষ্ঠীর লোকজন বসবাস করছে। যা গুজব রটনাকারীদের প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট প্রমাণ করে।

বাংলাদেশের সংবিধান, পার্বত্য চট্রগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯, পার্বত্য চট্রগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ এবং আন্তর্জতিক বিভিন্ন আইন অনুযায়ী পার্বত্য চট্রগ্রামে ম্রোসহ অন্যান্য প্রথাগত জনগোষ্ঠীর অধিকার চর্চায় বাধা সৃষ্টি করার কোন সুযোগ নেই। সরেজমিনে বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং উপরোক্ত দলিলসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, উল্লেখিত এলাকায় কোন জাতি গোষ্ঠীর অধিকার চর্চায় বাধা সৃষ্টি করা হয়নি। উপরোক্ত ২০ (বিশ) একর জায়গা পার্বত্য শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ ধারা ৬৪ (ক) মোতাবেক জেলা পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন শিল্প উন্নয়নে বন্দোবস্তি নেয়া হয়েছে এবং উক্ত জমিটি একটি ৩য় শ্রেণীর হওয়ায়, সেখানে ইতিপূর্বে কোন জনবসতি অথবা খামার ছিল না। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রচারিত সকল তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট প্রমাণিত করে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ম্রো জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায় যে, ম্রো জনগোষ্ঠী অত্যন্ত নিরীহ ও শান্ত প্রকৃতির। এ প্রেক্ষিতে প্রশাসন তথা সেনাবাহিনী পক্ষ হতে কোনরূপ ভয়ভীতি প্রদর্শনের নজির খুঁজে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যে প্রতিবাদগুলো ম্রোদের বলে প্রচার করা হচ্ছে তার সবগুলোই বরং বিভিন্ন কুচক্রি ও স্বার্থন্বেষী মহল কর্তৃক তাদের অসাধু স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ম্রো জনগোষ্ঠীকে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে সংগঠিত করেছে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, সেনাবাহিনী ম্রোদের কল্যাণে আলীকদম উপজেলায় একটি মুরং হোস্টেল পরিচালনা করছে। এছাড়াও জেলা পরিষদের সহায়তায় বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক এলাকায় একটি ম্রো হোস্টেলসহ বিশেষ স্কুলের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও সেনাবাহিনী কর্তৃক ২০১৫ সালে আত্মসমাপর্ণকৃত মুরং বাহিনীর সদস্যদের পূর্ণবাসন এবং তাদের নামে থাকা বিভিন্ন মামলা হতে অব্যাহতির কার্যত্রুম চলমান রয়েছে।

আরো প্রচার করা হয় হোটেলের প্রয়োজনে ২০ একর জমি নেওয়ার কথা বলা হলেও কার্যতঃ বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সীমানা খূঁটি স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শুধুমাত্র ২০ (বিশ) একর জায়গার চতুর্পার্শ্বে সীমানা খুঁটি স্থাপনের কার্যত্রুম অব্যাহত রয়েছে। আরো উল্লেখ্য যে, ২০ (বিশ) একর জায়গার অতিরিক্ত কোন স্থান বর্তমান প্রকল্পের আওতাধীন নয় এবং ভবিষ্যতেও গ্রহণ করা হবে না। আসলে কতিপয় চক্রান্তকারী পর্যটন প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে এবং মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

বান্দরবান সেনা রিজিয়নের সাথে বান্দরবান জেলা পরিষদের সম্পাদিত চুক্তি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উক্ত ২০ (বিশ) একর জায়গা পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে ৪০ (চল্লিশ) বছরের জন্য বন্দোবস্তি নেয়া হয়েছে যেখানে সেনাবাহিনীর নিজস্ব প্রয়োজনে কোন স্থাপনা নির্মিত হবে না। উপরোক্ত বন্দোবস্তিটি শান্তিচুক্তি ১৯৯৭ এর ৬৪ (ক) ধারা মোতাবেক নিয়ম মেনে করা হয়েছে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় অধিবাসীদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন তথা দেশের পর্যটন শিল্পের প্রসারের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক কুচক্রিমহল পার্বত্য বান্দরবান জেলার উন্নয়ন বিরোধী অপ্রচার চালাচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

চন্দ্রপাহাড়ে পর্যটন রিসোর্ট নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই জেএসএস(মূল), পিসিপিসহ স্বার্থন্বেষী কিছু কুচক্রী মহলের ইন্ধনে বান্দরবান শহরে তথা প্রকল্প এলাকার আশে পাশে ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর সমন্বয়ে প্রকল্পের বিপক্ষে নিম্নবর্ণিত সভা ও র‌্যালীর আয়োজন করা হয়ঃ

ক। গত ৮ নভেম্বর ২০২০ তারিখে বান্দরবান চন্দ্রপাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণের প্রতিবাদে নীলগিরির কাপ্রুপাড়ায় কিছু সংখ্যক উগ্রপন্থী স্থানীয় উপজাতি জেএসএস (মূল) এর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি মানববন্ধন করে।

খ। গত ১৫ নভেম্বর ২০২০ তারিখ চন্দ্রপাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণ বন্ধের প্রতিবাদে বান্দরবান শহরসহ বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন সড়কে পিসিপি কর্তৃক একটি মানববন্ধন করা হয়। উক্ত মানববন্ধনে পিসিপি’র আনুমানিক ৩৫-৪০ জন সদস্য উপস্থিত ছিল।

গ। গত ৬ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ চন্দ্রপাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণের প্রতিবাদে পিসিপি এর পৃষ্ঠপোষকতায় থানচি বাজার এলাকায় থানচি উপজেলার তথাকথিত সচেতন ছাত্র সমাজ এর আয়োজনে একটি র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত র‌্যালীতে আনুমানিক ৩০-৩৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিল।

ঘ। গত ১১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ জেএসএস (মূল) এর প্ররোচনায় নীলগিরি চিম্বুক রেঞ্জ সংলগ্ন নাইতং পাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণের বিরুদ্ধে কাপ্রুপাড়ায় কতিপয় বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের আয়োজনে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আনুমানিক ৩০-৩৫ জন ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর যুবক উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়ার কোন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল যুবক সংবাদ সম্মেলনটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে প্রচার করে।

ঙ। গত ৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ জেএসএস (মূল) এবং কিছু স্বার্থন্বেষী কুচক্রী মহলের ইন্ধনে আনুমানিক ৮০-১০০ জন উগ্র উপজাতী ঝাড়ুর ফুল কাটাকে ইস্যু করে জীবননগর চন্দ্রপাহাড়ের সেনা পোস্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আসে। উক্ত সেনা পোষ্টের দায়িত্বরত পোষ্ট কমান্ডার আগত ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর জনগণকে পোষ্ট এলাকায় প্রবেশ করতে নিষেধ করলে তারা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক সেনা পোষ্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে ফুলের ঝাড়ু কাটতে থাকে। এক পর্যায়ে উগ্র উপজাতীয় জনগণ পাশে থাকা আরএন্ডআর কোম্পানীর প্রজেক্টের নিরাপত্তারক্ষীদের আক্রমণ করে আহত করে। পরবর্তীতে মেনচিং ম্রো (মেম্বার, কাপ্রুপাড়া) উক্ত স্থানে এসে উগ্র উপজাতীদের সাথে কথা বলার পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

চ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ জেএসএস (মূল) এবং পিসিপি এর ইন্ধনে ম্রো জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে একটি লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। তারা বান্দরবানের ১৪ কিঃমিঃ পয়েন্ট হতে লং মার্চ করে বান্দরবান শহরসহ রাজার মাঠ পর্যন্ত আসে। রাঙ্গামাটির চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী ইয়েন ইয়েন উক্ত লং মার্চে সশরীরে উপস্থিত থেকে ইন্ধন যুগিয়েছেন। ইয়েন ইয়েন এর সরাসরি তত্ত্বাববধানে অনেক বহিরাগত ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ উক্ত লং মার্চে উপস্থিত ছিলেন। ইয়েন ইয়েন লং মার্চের খাবার এবং পরিবহন ভাড়া বাবদ প্রায় ৫,০০,০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ টাকা মাত্র) টাকা খরচ করেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উস্কানীমূলক পোষ্ট দিয়ে নিরীহ ম্রো জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস তিনি অব্যাহত রেখেছেন।

৯। রিসোর্ট নির্মাণ বিষয়ে চলমান বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষিতে বান্দরবান রিজিয়ন কর্তৃক নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে:

ক। গত ১৭ নভেম্বর ২০২০ তারিখ অত্র রিজিয়ন এর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে এ বিষয়ে ভুল ধারণা পরিস্কার করার জন্য ম্রো জনগোষ্ঠী ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে বান্দরবান শহরসহ মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন সড়কে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে ম্রো সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় সকল ব্যক্তি এবং অত্র এলাকার সচেতন জনগণ চন্দ্রপাহাড়ে রিসোর্ট নির্মাণের পক্ষে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। উক্ত মানববন্ধনে আনুমানিক ৬০০-৭০০ জন ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিল।

খ। গত ২২ নভেম্বর ২০২০ তারিখ বান্দরবান জেলা পরিষদের সভাকক্ষে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব ক্য শৈ হ্লা কর্তৃক চন্দ্রপাহাড়ে রির্সোট নির্মাণ বিষয়ের উপর একটি প্রেস ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিং এ তিনি রিসোর্ট নির্মাণের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতে আহবান করেন।

গ। বান্দরবানের উজানীপাড়ায় ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিল অফিসে গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে চন্দ্রপাহাড় এলাকার স্থানীয় ম্রো নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় রিসোর্ট নির্মাণের বিপক্ষে প্রচারকৃত নানা অপপ্রচার এর ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকার জন্য আহবান জানানো হয়।

ঘ। গত ৯ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ জীবননগর কাপ্রুপাড়া এলাকায় জোন কমান্ডার রুমা জোন এর নেতৃত্বে রির্সোট নির্মাণ বিষয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমন্বয় সভায় ম্রো সম্প্রদায় এর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আর এন্ড আর হোল্ডিং গ্রুপের প্রতিনিধি প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ সিরাজুল ইসলামও উপসিহত ছিলেন।

(১) উক্ত সভায় সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় ম্রোদের কল্যাণে নিম্নবর্ণিত প্রস্তাবনা দেয়া হয়ঃ

(ক) অত্র এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হবে।
(খ) ম্রোদের জন্য রির্সোট সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে একটি শপিং কমপ্লেক্স তৈরী করা হবে।
(গ) শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী তাদেরকে চাকুরী দেওয়া হবে।
(ঘ) ঝাড়ুর ফুল কাটার সুযোগ দেওয়া হবে।
(ঙ) সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাদের সাথে সেনাবাহিনী কাজ করবে।
(চ) তাদেরকে সাথে রেখে উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।
(ছ) যে কোনো প্রয়োজনে তাদেরকে সাহায্য করা হবে।

১০। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এটা প্রতীয়মান হয় যে, শুধুমাত্র কিছু অসাধু, স্বার্থান্বেষী চক্র নিজেদের অনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নৈতিকতা বিবর্জিত এ সকল লোকের কার্যক্রমের সাথে
স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। সহজ সরল ম্রো জনগোষ্ঠী যাতে অগ্রসর হতে না পারে, চিরদিন যেন ঐ সকল কুচক্রী মহলের আজ্ঞাবহ হয়ে জীবনযাপন করে এটাই তাদের অপপ্রচার এর মূল উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নসহ পাহাড়ী এলাকায় উন্নয়ন ও সম্প্রীতি স্থাপন করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে তখনই এ অসাধু চক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাই উন্নয়নের স্বার্থে এখনই এদের প্রতিহত করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে দেশের সুশীল সমাজসহ বান্দরবান জেলার পাহাড়ী বাঙ্গালীসহ সকল শ্রেণীর পেশার মানুষকে। উন্নয়নের স্বার্থে এসকল কুচক্রী মহলকে জাতীয়ভাবে বর্জন করা এখন সময়ের দাবি।

♦ লেখক: বান্দরবান থেকে

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + four =

আরও পড়ুন