parbattanews

চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধ, শামীম ওসমানের বিচার শুরু

চব্বিশে জুলাই অভ্যুত্থানকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যা তথা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তৎকালীন আওয়ামী এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন আগামী ১০ জুন।

মামলাটির সব আসামিই পলাতক। এ কারণে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগ করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- শামীম ওসমান, তার পুত্র ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরি ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র। চার্জ গঠনকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে আব্দুস সাত্তার পালোয়ান, সহিদুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: আলী হায়দার, শেখ মুস্তাভী হাসানা ও আমির হোসেন।

এর আগে গত ৫ মে এ আদেশ দেয়ার কথা ছিল। তবে এটি মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল-১। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হলো।

চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তিনটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশ এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপসহ ৬ জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্টে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তবে পলাতক থাকায় আসামিদের অনুপস্থিতিতেই চলছে বিচারকাজ।

Exit mobile version