চাকমাদের প্রসাদ খাওয়ার ছবি তোলা নিয়ে হামলা-সংঘর্ষ, মামলা

fec-image

টেকনাফের হোয়াইক্যং কাটাখালী এলাকায় বাঙালি ও চাকমা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি মূলত: চাকমাদের প্রসাদ খাওয়ার ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে হয়েছে। ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের কোন সুযোগ নাই। ঘটনার আরো কোন কারণ আছে কিনা, তা অনুসন্ধান চলছে।

পার্বত্যনিউজকে এমনটি জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান।
ওসি জানান, চাকমা সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্নিমার অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানের প্রসাদ (খাবার) খাওয়া শেষে হাড়ি-পাতিল পরিষ্কারের সময় ছবি তুলতে যায় স্থানীয় কিছু যুবক। এ নিয়ে বাঙালি যুবকদের ওপর হামলা চালায় ক্ষিপ্ত চাকমারা। হামলার সূত্র ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

ঘটনাকে পুঁজি করে সাম্প্রদায়িক ফায়দা হাসিলের কোন সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ওসি মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ১৩ জনসহ আরও ৩৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কাটাখালী চাকমাপাড়ার মৃত কাজল চাকমার ছেলে জতিন চাকমা (৬০) বাদি হয়ে টেকনাফ থানায় রবিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে মামলাটি করেছেন। যার নং-৯০/২১। তবে, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়দের নিকট থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। মামলার বর্ণনার সাথে ঘটনার কোন মিল নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ছাত্রলীগ নেতা তোফাইল বলেন, রবিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে বাহারছড়া ডেইঙ্গাকাটা সড়কে কয়েকজন চাকমা মিলে বাঙালীদের টাকা-পয়সা ও তরি-তরকারী কেড়ে নেয়। খবর শুনে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে জানতে পারলাম, তরকারী নয়, ইয়াবা কেড়ে নিয়েছে। এই খবরে আর যাইনি।

এ ঘটনা নিয়ে বেলা দুইটার দিকে ডেইঙ্গাকাটা এলাকায় কয়েকজন চাকমার সাথে আমার কথা কাকাকাটি হয়। এ পর্যায়ে তারা আমার মোবাইল, টাকা কেড়ে নেয়। ওই সময় আমি একা। নিরুপায় ছিলাম। সেখান থেকে কোনমতে চলে আসি। আসরের পরে কাটাখালী ব্রিজের ওপর তাদের একজনকে দেখে থাপ্পড় মারি। এ বিষয়ে আমার বড় ভাই কাইছারকে বিচার দেয় চাকমারা।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, ইয়াবা কেড়ে নেওয়া ও থাপ্পড় মারাকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকালে কাটাখালী ব্রীজের উপরে বৈঠকে উভয়পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। সালিশ চলাকালে এক পর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে উভয়পক্ষে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ১০ জন মতো আহত হয়েছে।

সন্ধ্যার দিকে চাকমার পল্লীর পরিত্যক্ত বাড়ির রান্না ঘরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। যেখানে বাঙালীদের কোন সম্পর্ক নাই। সাম্প্রদায়িক ইস্যু টেনে ফায়দা হাসিল করতে চাকমারা নিজেরাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে।

হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, তুচ্ছ বিষয়ে বাজার এলাকায় ঘটনা হয়েছে শুনলাম। চাকমা পাড়ায় অগ্নিসংযোগের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 12 =

আরও পড়ুন