parbattanews

চার বছরেও হত্যার মোটিভ উদ্ঘাটিত হলো না

চার বছর আগে লামা পৌরসভার চাম্পাতলী এলাকায় নিজ বাড়িতে নৃসংশভাবে খুন হন কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদ এর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৬) ও দুই সন্তান সুমাইয়া ইয়াছমিন রাফি (১৬), নুরে জান্নাত (১০ মাস)। তদন্তে গাফলতি ও নানা নাটকীয়তায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে চাঞ্চল্যকর এই খুনের মোটিভ বা প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)।
ঘটনার পর থেকেই অভিযোগ উঠেছে, এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছে সুপরিকল্পিত ভাবে। কারা খুন করছে, কেন করেছে, কীভাবে খুন হয়েছে এবং নেপথ্যের সূত্র কী এই সব প্রশ্নের কোনো কুলকিনারা নেই। হত্যাকান্ডের জট খুলতে পিবিআই মামলা হওয়ার পর পরই তদন্তের দায়িত্ব নেয়। লামা থানা হতে গত ২০২১ইং এর ৭ জুন পিবিআই-কে মামলার তদন্তের জন্য নথি হস্তান্তর করা হয়।
কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করা হয় গত ২০২১ইং সাালের ২০ মে সন্ধ্যা অনুমান ৮:১৫ ঘটিকা হতে ২১ মে সন্ধ্যা অনুমান ৭টার মধ্যে যেকোনো সময়। হত্যাকান্ডের সময় প্রবাসী নুর মোহাম্মদ কুয়েতে ছিলেন। খুনের পর মাজেদা বেগমের মা লাল মতি খাতুন (৭০) বাদী হয়ে গত ২২ মে ২০২১ইং লামা থানায় অজ্ঞাত নামা বিবাদী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের এরপর লামা থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আলমগীর কে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। এই পর্যন্ত দুইবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে।
মামলা দায়েরের কিছুদিনের মধ্যে সন্ধিগ্ধ হিসাবে ৩ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে তারা জামিনে জেল হাজত থেকে মুক্তি লাভ করেন। তারা হলো উত্তম কুমার, আব্দুল খালেক ও শাহ আলম। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) গত ০৭ জুন ২০২১ইং এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই এ কর্মরত পুলিশ পরিদর্শন (নিরস্ত্র) তৌহিদুল আনোয়ারকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। পিবিআই এর এ তদন্ত কর্মকর্তার দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাসের তদন্তের ফলাফলে কোনো অগ্রগতি হয়নি। জানা গেছে, আদালতে এই মামলাটি বিভিন্ন আদেশের জন্য ৭১ বার উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাদী ও নিহতের আত্মীয়-স্বজন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই হিমাগারে পড়ে আছে।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং পিবিআই এ কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পিবিআই পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া গত ২১ জানুয়ারী লামা চৌকি আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে লামার তদন্ত প্রতিবেদন সংক্রান্ত লিখিত ব্যাখ্যায় জানান কয়েক জন সাক্ষীর জবানবন্ধি গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার বাদীর সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু আজও এ মামলার কোনো কুলকিনারা হয়নি।

Exit mobile version