‘চিকেনস নেক’ করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের

fec-image

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করা পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডরে শিগগিরই ভূগর্ভস্থ রেললাইন বসাতে যাচ্ছে ভারত। কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত চিকেনস নেক করিডরে চার লাইনের ভূগর্ভস্থ রেলপথ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে দেশটি।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত এই করিডরটি সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার চওড়া। এটি ভারতের অন্যতম সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। করিডরটির এক পাশে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ। আর তারও বাইরে রয়েছে চীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটে রেল মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নিয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সের অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করা ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এখানে ভূগর্ভস্থ রেললাইন বসানো এবং বিদ্যমান রেলপথকে চার লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা চলছে।

নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (এনএফআর)-এর মহাব্যবস্থাপক চেতন কুমার শ্রিবাস্তব জানান, পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে এই ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মিত হবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই ভূগর্ভস্থ অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের কাছে শিলিগুড়ি করিডর দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। ২০১৭ সালের ডোকলাম সংকটের সময় সামরিক পরিকল্পনাকারীরা প্রকাশ্যেই এই অঞ্চলের ভঙ্গুরতার কথা বলেন। এখানে সামান্য কোনো বিঘ্ন ঘটলেই উত্তর-পূর্বাঞ্চল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। যোগান ব্যবস্থা ও সেনা চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

ভারতের এনএফআর-এর প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নির্মাণ), হিতেন্দ্র গোয়েল আরও বলেন যে, ভূগর্ভস্থ ট্র্যাকের পাশাপাশি, এই অংশের বিদ্যমান ডাবল লাইনটিকে চার-লাইন লাইনে রূপান্তরিত করা হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আশেপাশের অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা উন্নয়নের কারণে এই অঞ্চলটি নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে

এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি যেকোনো চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং যেকোনো হুমকি বা হস্তক্ষেপের ঊর্ধ্বে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন