চিম্বুক পাহাড়ের সম্ভাব্য পর্যটন এলাকা পরিদর্শনে সংসদীয় কমিটি

fec-image

বান্দরবানের বহুল আলোচিত চিম্বুক পাহাড়ের সম্ভাব্য পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি দল।

শনিবার (২০ মার্চ) তিন সদস্যের সংসদীয় দলটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষ করে রবিবার (২১ মার্চ) সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলনায়তনে হেডম্যান-কারবারি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

জানা গেছে, সরেজমিনে চন্দ্রপাহাড় এলাকা পরিদর্শনকালে সংসদীয় কমিটি স্থানীয় বাসিন্দা, জেলা পরিষদের সদস্য ও ম্রো জনগোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদারের নেতৃত্বে সংসদীয় তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্যরা হলেন খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সাংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যেন্দ্র কুমার সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব লতিফা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রবিবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ স্থানীয় হেডম্যান-কারবারী, প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।

সকাল ১১টায় বান্দরবান জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউস‍ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সাব-কমিটির আহবায়ক দিপংকর তালুকদার এমপি, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, মীর মোস্তাক আহমেদ এমপি, পার্বত‍্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত‍্যেন্দ্র কুমার সরকার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, ৬৯ ব্রিগেডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরিজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুদ্দুস ফরাজী, হেডম‍্যান-কারবারী কল‍্যাণ পরিষদ সভাপতি, হ্লা থোয়াইহ্রী মারমা, হেডম‍্যান এ‍্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিমং প্রু মারমা, হেডম‍্যান-কারবারী কল‍্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উনিহ্লা মারমা, ম্রো নেতা রাং লাই ম্রো, খামলাই ম্রো, মংপাত ম্রো, জেলা পরিষদ সদস‍্য সিং ইয়ং ম্রো এবং চন্দ্রপাহাড় সংশ্লিষ্ট এলাকার হেডম‍্যান, কারবারি ও ম্রো পাড়া সমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ।

এ সময় সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রধান দীপঙ্কর তালুকদার স্থানীয়দের বলেছেন, তাঁরা প্রকৃত বিষয়টি জানার জন্য এসেছেন। প্রয়োজনে আবারও আসবেন।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের কথা বিবেচনায় ২০১৬ সনের ১৬ জুন খাস খতিয়ানের পরিত্যক্ত চন্দ্রপাহাড়ে ২০ একর জায়গায় আর্ন্তজাতিক মানের রিসোর্ট নির্মাণের জন্য সরকারের কাছ থেকে ৩৫ বছরের জন্য লীজ নিয়েছিল আর্মি ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ও সিকদার গ্রুপ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে কোন জনবসতি নেই। দূরের কলাইপাড়া, ধলাইপাড়াসহ তিনটি গ্রাম থাকলেও সেখানে সবমিলিয়ে ম্রো জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৬-৭শ। সেসব গ্রামের অনেকে প্রকল্প এলাকায় মজুরী ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এতে করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে তারা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × five =

আরও পড়ুন