parbattanews

চীন ও তাইওয়ান একদিন ঐক্যবদ্ধ হবে : শি জিনপিং

ছবি সংগৃহীত।

চীন ও তাইওয়ান একদিন ঐক্যবদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। বেইজিংয়ে তাইওয়ানের প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী চেং লি-উনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ান ও চীনের সম্পর্ক অপরিবর্তনীয় এবং এটি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, “তাইওয়ান ও চীনের জনগণ একদিন অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হবে এ ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দ্বীপটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে চেং লি-উন আশা প্রকাশ করেন, তাইওয়ান প্রণালী আর সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু থাকবে না। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের উচিত রাজনৈতিক মতপার্থক্য অতিক্রম করে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য একটি কাঠামোগত সমাধান খুঁজে বের করা, যাতে তাইওয়ান প্রণালী শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তির একটি বৈশ্বিক উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।”

প্রায় এক দশক পর চেং লি-উনের এই চীন সফর তাইওয়ানে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সমালোচকরা তাকে অতিরিক্ত বেইজিংপন্থী বলে অভিযোগ করছেন।

চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও উড়িয়ে দেয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের আশপাশে চীনের সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং নিয়মিত সামরিক মহড়া চালানো হচ্ছে।

এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়েও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিরোধ চলছে। ১.২৫ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলারের (প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) একটি সরকারি প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রস্তাব বিরোধী দল কুওমিনতাং-নিয়ন্ত্রিত সংসদে কয়েক মাস ধরে আটকে আছে। চেং লি-উন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছেন, “তাইওয়ান কোনো এটিএম নয়।” এর পরিবর্তে তিনি ৩৮০ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার (প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দের বিকল্প পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

চেংয়ের এই সফরটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের ওপর মার্কিন অস্ত্র ক্রয়ের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসন মোকাবিলায় এই অস্ত্র সংগ্রহকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে তাইওয়ানের বর্তমান নেতা লাই চিং-তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, চীনের সামরিক হুমকি তাইওয়ান প্রণালী ও আশপাশের অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সফরের অংশ হিসেবে চেং লি-উন সাংহাই ও নানজিং সফর করেন এবং নানজিংয়ে বিপ্লবী নেতা সান ইয়াত-সেনের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। উল্লেখ্য, প্রায় এক দশকের মধ্যে তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের কোনো নেতার এটিই প্রথম চীন সফর।

উৎস : arynews.tv

Exit mobile version