চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমানের একটি আধুনিক কমব্যাট সিমুলেটর (প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম) গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। যা মোদি সরকারের জন্য উদ্বিগ্নতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট‘র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামরিক শক্তিতে চীন-পাকিস্তান যৌথ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে তা ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত কৌশলে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের দিকে যেভাবে এগুচ্ছে তাতে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলেও তাদের ধারণা।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, বেইজিং-ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার এই সামরিক প্রযুক্তি-সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। যা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিষয়টি ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিমান বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম আনুষ্ঠানিক এয়ার স্টাফ টকসের পর এই সিমুলেটর হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে আসে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নেয়, যেখানে চীন-পাকিস্তান যৌথভাবে উন্নত যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি মূলত চীনের চেংদু অ্যারোস্পেস কর্পোরেশন এবং পাকিস্তানের যৌথ উন্নয়ন করা একটি ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধবিমানের ককপিটের আদলে তৈরি কমব্যাট সিমুলেটরটি পাইলটদের বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। এতে রাডার পরিচালনা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক যুদ্ধ কৌশল অনুশীলন করা সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সিমুলেটর শুধু প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম নয়, বরং ভবিষ্যতে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির আগাম প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো দেশের বিমান বাহিনীতে নতুন যুদ্ধবিমান যুক্ত করার আগে পাইলট ও প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতা গড়ে তোলার জন্য এমন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলেও এবার বেইজিং ও ইসলামাবাদের যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোর দিকে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
উৎস : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট থেকে অনূদিত
