পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের সন্তান মো: আজগর আলী, বয়স ১৭ এর কাছাকাছি। পেকুয়ার আনাচে-কানাচে কন্ঠ শিল্পী হিসেবে আজগর আলী সমাধিক পরিচিত। পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীন বিয়ে-সাদীর অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলেই তার সুললিত কন্ঠে দর্শকদের মনমাতানো গান শোনাতে ছুটে যান শিল্পী আজগর আলী। আজগর মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালী গ্রামের দরিদ্র শফিউল আলমের পুত্র।
তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বছর চারেক আগে হঠাৎ আজগরের বাম চোখ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়। এরপর ডান চোখও আক্রান্ত হয়। পরে শিল্পী আজগরের দুই চোখও অন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে আজগর আলী একটি লাঠির উপর ভর দিয়ে অন্যের সাহায্যে চলাফেরা করে। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ধার দেনা করে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল ও কক্সবাজার বায়তুশ শরফ চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চোখ অপরেসনের জন্য ৪০/৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। কিন্তু আজগরের দরিদ্রের পরিবারের পক্ষে সে টাকা যোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
গত কয়েক দিন আগে পেকুয়া বাজারে দেখা মেলে কন্ঠ শিল্পী আজগরীর আলীর। সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তার মনোযাতনার সব কথা খুলে বললেন। আজগর আলী জানালেন, তিনি গত ৪/৫ বছর ধরে অন্ধত্বের অভিশাপ নিয়ে পরিবারের সাথে বসবাস করছেন। টাকার অভাবে তার চোখের অপারেশন করাতে পারছেনা। তাকে ডাক্তাররা বলেছেন, ঢাকায় গিয়ে বড় চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অপারেশন করা হলে চোখের আলো ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখন তার বাধ সেধেছে টাকার। যে তার পিতার সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে ঢাকায় গিয়ে চোখের অপারেশনের চিন্তাই তার আসেনা। তাই আজগর আলী তার চোখের আলো ফিরে পেতে চিকিৎসার অর্থ সহায়তার জন্য দেশের সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।