parbattanews

জটিল সার্জারিতে চমক রাঙামাটির চিকিৎসকদের, সুস্থতার পথে বিতারন দেওয়ান

ছবি : প্রতীকী

সময়ের পরিক্রমায় সাফল্যের পালক যুক্ত হচ্ছে রাঙামাটির চিকিৎসকদের মধ্যে। বিতারণ দেওয়ান (৪২) নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন রোগের কারণে একটানা শুয়ে থাকায় কোমর ও নিতম্বের সংযোগস্থল বা স্যাক্রাম এ ওপর প্রচণ্ড চাপে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পচে যায়। গভীর ক্ষত নিয়ে ওই রোগীকে তার স্বজনরা রাঙামাটি সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করান।

রাঙামাটির সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরিক্ষা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে তার সমস্যাটি জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা পড়ে । এটি মূলত দীর্ঘসময় বিছানায় শুয়ে থাকার কারণে পিঠের নিচের অংশে (কোমর ও নিতম্বের সংযোগস্থল বা স্যাক্রাম এলাকায়) সৃষ্ট গভীর ও বড় ক্ষত। পিঠের একদম নিচের মেরুদণ্ড সংলগ্ন হাড়ের অংশে সমস্যাটি দেখা যায়।রোগীর সেরে উঠার জন্য সার্জারি ছাড়া বিকল্প ছিল না।

এটি একটি জটিল সার্জিক্যাল চিকিৎসা। সাধারণত এই ধরণের জটিল অপারেশনগুলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ বড় ধরনের বিশেষায়িত হাসপাতালে করা হয় ।

তবে রোগীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় ও সার্বিক ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বুধবার (১৭ জুন) রোগীর অপারেশন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে সফল ভাবে সম্পন্ন হয়।

সার্জারি বিভাগের দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতের আশেপাশের সুস্থ ও রক্তনালী সমৃদ্ধ চামড়া, চর্বি বা পেশী (ফ্ল্যাপ) ঘুরিয়ে এনে উন্মুক্ত ক্ষতস্থানটি ঢেকে দেওয়া হয়, যাতে হাড়ের ওপর নরম টিস্যুর কুশন তৈরি হয় এবং পুনরায় ঘা না হয়।

অপারেশন টিমের নেতৃত্বে ছিলেন বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. শাহ কামাল , সহযোগী ছিলেন ডা. সুবীর , ডা. সাদিয়া এবং সাথে ছিলেন, এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সাগর নন্দী। সাথে একদল দক্ষ টিম সার্জারিতে সহযোগিতা করেছেন।

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শওকত আকবর বলেন, আমাদের এখানে দুর্গম এলাকা থেকে অনেক রোগী আসে। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করা অসম্ভব। আমাদের মেধাবী একদল চৌকস চিকিৎসকরা সাহস আর মনোবল দেখিয়ে জটিল রোগের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, সার্জারিটি অনেক জটিল এবং চ্যালেঞ্জ ছিলো চিকিৎসকদের জন্য। তবে আমাদের চিকিৎসকরা সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফল হয়েছে।আশা করছি রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ্য হয়ে উঠবেন। আমাদের এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে আমাদের চিকিৎসকরা নতুন নতুন চমক সৃষ্টি করবে। এসময় তিনি চিকিৎসক টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চিকিৎসা নেওয়া রোগী বিতারণ দেওয়ানের গ্রামের বাড়ি জেলার দুর্গম বরকল উপজেলার জগন্নাথ ছড়া এলাকায়।

Exit mobile version