জনবল সংকট জরাজীর্ণ ও কুঁড়ে ঘরে চিকিৎসা সেবায় মানিকছড়ি প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর’র বেহাল দশা!

fec-image

অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে পোল্ট্রি ও ডেইরী শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগ বেড়েছে মানিকছড়িতে । ফলে অতীতের ন্যায় দায়সারা চিকিৎসা সেবার সুযোগ নেই এখানে। কিন্তু হাত-পা বেঁধে সাতাঁর কাটতে বাধ্য করা হয়েছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর’কে! টিনের ছাউনি জরাজীর্ণ বেড়ার ঘরে জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে নিয়মিত ধরাশায়ী মানিকছড়ি’র জনগুরুত্বপূর্ণ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর!

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌনে এক লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত মানিকছড়ি উপজেলার শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর।

প্রতিটি পরিবারে গৃহপালিত হাঁস-মুরগী,গরু-ছাগল থাকার পাশাপাশি সম্প্রতিকালে এখানে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে শতশত পোল্ট্রি ফার্ম ও অর্ধশত ডেইরী খামার। ফলে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর এখন জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হিসেবে জনপদে এর চাহিদা বেড়েছে।

পুরাতন উপজেলা পরিষদ চত্বরের নির্জণ জনপদে টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়ার জরাজীর্ণ কুঁড়ে ঘরে সমস্যার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে নিয়মিত বেসামাল অবস্থায় দিনাতিপাত করছে উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরটি।

পুরাতন উপজেলা পরিষদের খাস খতিয়ানের ৩.৩৩ একর টিলার প্রস্তাবিত ভূমিতে অনেক পুরানো একটি জরাজীর্ণ টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়া বেষ্টিত কুঁড়ে ঘরেই চললে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কার্যক্রম! তাও আবার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১০জনবল পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৪জন! ৬টি শুন্যপদ নিয়ে এত জনগুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তর উপজেলার হাজারো পোল্ট্রি খামার ও অর্ধশত ডেইরী খামারসহ অগণিত কৃষিনির্ভও পরিবারে গৃহপালিত প্রাণীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কঠিন!

তারপরও বর্ষা কিংবা প্রখর রোদে একমাত্র উপজেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারী সার্জন, উপজেলা সহকারি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা(সম্প্রসারণ) ও একজন অফিস সহকারী দিয়ে পুরো কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে!

গ্রামের সাধারণ মানুষজন গৃহেপালিত হাঁস-মুরগীর নানা সমস্যা নিয়ে নিয়মিত প্রাণী সম্পাদ অফিসে আসা-যাওয়া করে সেবা নিতে পারলেও পোল্ট্রি ও ডেইরী খামারীর বিপদে-আপদে সরজমিনে ছুঁটে যেতে হয় পশু চিকিৎসকদের।

কর্মকর্তসহ মাত্র ৩জন ব্যক্তি এক সঙ্গে অফিস এবং ফিল্ডের সেবা নিশ্চিত করা খুবই কঠিন!

জন চাহিদা অনুযায়ী মানুষের দ্বারে দ্বারে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্মকর্তারা! এতে করে পোল্ট্রি ও ডেইরী শিল্পে চিকিৎসা সেবার ব্যাহতের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে!

জরুরি ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরে জনবল সংকট নিরসন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অফিস নির্মাণ এখন সময়ের দাবী।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা ডেইরী ফার্ম মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইকবাল জানান, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন সারাদেশে পোল্ট্রি ডেইরী শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে। কিন্তু সে অনুযায়ী সরকার এ খাতে চিকিৎসা সেবা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পারেনি। ফলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা খামারী ও সাধারণ কৃষি নির্ভর পরিবারে পালিত হাঁস-মুরগী,গরু-ছাগল চিকিৎসায় সকল সুবিধা সম্বলিত প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর’কে কার্যকর ভূমিকা রাখার উপযোগী করে গড়ে তোলা উচিত।

পোল্ট্রি ও ডেইরী শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি আমরা ।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুচয়ণ চৌধুরী অফিসে জনবল সংকট, জরাজীর্ণ/ কুঁড়ে ঘরে কার্যক্রম পরিচালনায় দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জনপদে চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে শুণ্যপদে জনবল পদায়ণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ভবণ নির্মাণের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − seven =

আরও পড়ুন