জোরপূর্বক সন্তান প্রসব, স্বাস্থ্যকর্মীসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা

fec-image

নিদিষ্ট সময়  হওয়ার আগেই জোর করে বাচ্চা প্রসব করানোর অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডিককুল এলাকার আজগর আলীর স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩৯) ও ছৈয়দ আলমের স্ত্রী হাবিয়া খাতুন (৪৫)।

২০ এপ্রিল কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত -১ এ মামলাটি করেন ভিকটিম প্রসূতি শাহীনা আকতার (২৬)। যার সি.আর মামলা নং-৩৪২/২০২২। বাদী একই এলাকার নুর মোহাম্মদের মেয়ে।

মামলাটি এফআইআর অর্থাৎ জিআর মামলা হিসাবে রেকর্ড করে পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসিকে বিজ্ঞ নির্দেশ দিয়েছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী।

অভিযোগ হলো, দিনক্ষণ বাকী থাকতে জোর করে মেশিন দিয়ে বাচ্চা প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের মাথার রগ ছিড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে নবজাতক চিরদিনের জন্য সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। শ্রবণশক্তি, বাক শক্তি সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে। নবজাতক হাসেনা, কাঁদেনা, কোন শব্দ করেনা, মাথা নাড়তে পারেনা, সবসময় ঘুমিয়ে থাকে।

শাহিনা আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন-তিনি গর্ভবতী হওয়ার পর সূর্যের হাসি ক্লিনিকে চেকআপ করে তাঁর সম্ভাব্য সন্তান প্রসবের দিনক্ষণ ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর বলে জানায়। কিন্তু আসামী মর্জিনা বেগম ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর শাহীনা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে সূর্যের হাসি ক্লিনিকে প্রয়োজন না হলেও সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হয়। পক্ষান্তরে, মর্জিনা বেগম এর দক্ষিণ ডিককুল আনাচ মঞ্জিল বটগাছতলায় স্থাপিত ক্লিনিকে মেশিনের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারি করানো হয় বলে প্রতারণা ও শটতামী করে তাকে সম্ভাব্য ডেলিভারি ডেইটের ১১ দিন আগে ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর আসামি মর্জিনা বেগম এর ক্লিনিকে নিয়ে আসে।

ক্লিনিকে এনে ডেলিভারির কথা বলে শাহীনা আক্তারের স্বামী থেকে মর্জিনা বেগম ২০ হাজার টাকা নেয়। পরে বাচ্চার মাথায় মেশিন লাগিয়ে জোর করে বাচ্চা প্রসব করানোর সময় বাচ্চার মাথার পেছনের অনেক রগ ছিড়ে যায়। ফলে অজ্ঞান অবস্থায় বাচ্চাটি প্রসব হয়। বাচ্চাটির মুমূর্ষু অবস্থায় একইদিন অর্থাৎ ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করিয়ে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান-বাচ্চাটি প্রসব করানোর সময় বাচ্চার মাথার পেছনের অনেক রগ ছিড়ে ফেলায় বাচ্চাটি আর কোনদিন স্বাভাবিক হবেনা, স্থায়ী প্রতিবন্ধীই রয়ে যাবে।

আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে প্রসূতি শাহিনা আক্তার তার নবজাতক হত্যার চেষ্ঠা, প্রতারণা, শটতামির অভিযোগ এনে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নম্বর-১ এ গত বুধবার ২০ এপ্রিল পেনাল কোডের ৩০৭/৩২৬/৪০৬/৪২০ ধারায় তিনজন সাক্ষী নাম উল্লেখ করে একটি নালিশী আবেদন দায়ের করেন।

আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) নালিশী আবেদনটি সিআর মামলা হিসাবে আমলে নেন। যার নম্বর সিআর : ৩৪২/২০২২ (সদর)। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত প্রয়োজন বলেও আদেশে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞ বিচারক।

এজন্য মামলার অভিযোগ এর বিষয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের একজন Gynecologist, একজন Pediatric, একজন Child Neurologist, সম্ভব হলে একজন Neurologist এর মতমত এবং তাঁদেরকে সাক্ষ্য মেনে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে আসামী মর্জিনা বেগম এর ক্লিনিকটি সরকারীভাবে অনুমোদিত ও নিবন্ধিত কিনা-তাও তদন্তকালে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী আদেশ দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × one =

আরও পড়ুন