ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় মানিকছড়িতে বোরো ধান কাটা শুরু করেছে প্রান্তিক কৃষক

fec-image

মানিকছড়িতে এবার প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছে প্রান্তিক কৃষক। সেচ সুবিধাপ্রাপ্ত জমিতে বোরোর বাম্পার ফলন হলেও বেশির ভাগ জমি খরা ও অনাবৃষ্টিতে ফলন বির্পযয়ের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো ধান কাটা শুরু করেছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় এক হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রান্তিক কৃষক এ বছর ৯শ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯শ ২০ মেট্রিক টন। উৎপাদিত ধানের মধ্যে ব্রিধান-২৮,৭৪,৭৯,৮১,৮৪,৮৬,৮৮,৮৯, বীনা ধান-২৯, এসব ফসল লাগানোর ১২৭-১৩৫ দিনের মধ্যে ধান পেকে যায়। আর ব্রিধান-২৯ লাগানোর ১৫০-১৫৫ দিন সময় লাগে পাকতে। ফলে আগাম বোরো ধানগুলো জমিতে পেকে যাওয়ায় দেরি না করে যথা সময়ে কেটে ফেলতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

প্রকৃতি কৃষক অনুকূলে না থাকায় উপজেলার বেশির ভাগই জমিই এবার অনাবৃষ্টি ও খরায় ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে! ফলে আশানুরুপ ধান উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখেই ঝড়বৃষ্টির আগাম সর্তকতায় উপজেলার বিলগুলোতে ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রান্তিক কৃষকরা দলে দলে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন। উপজেলার যোগ্যাছোলার ফকিরটিলা, কালাপানি, বড়ডলু ও কুমারী বিলের সেচ সুবিধাবঞ্চিত কৃষকরা প্রত্যাশিত ফসল না হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তারা শেষ সম্বল যাই হয়েছে তা দ্রুত নিরাপদে ঘরে তুলতে ধান কাটা শুরু করে দিয়েছে।

অন্যদিকে সেচ সুবিধা প্রাপ্ত বড়বিল এলাকার কৃষকরা জমিতে দলে দলে শ্রমিক নিয়োগ করে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করে দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ইতোমধ্যে সকল ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রান্তিক কৃষকদের ঝড়বৃষ্টির আশংকার বিষয়টি জানিয়ে দেয়াসহ পাকা ধান কাটার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সালা উদ্দীন কাউচার আফ্রাদ এ বিষয়ে বলেন, ব্রিধান-২৮,৭৪,৭৯,৮১,৮৪,৮৬,৮৮,৮৯ ও বীনা ধান-২৯ লাগানোর ১২৭-১৩৫ দিনের মধ্যে কাটা যায় আর। ব্রিধান-২৯ লাগানোর কমপক্ষে ১৫০-১৫৫ দিন সময় লাগে পাকতে। এবার সেচ সুবিধা বঞ্চিত কৃষকরা ধান উৎপাদনে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে সেচ সুবিধা প্রাপ্ত কৃষকরা বেশ ভালোভাবেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × four =

আরও পড়ুন