টমটম চালানোর ফাঁকে মাশরুম চাষে সফল পানছড়ির সোহাগ

পানছড়ি প্রতিনিধি:

টমটম চালানোর ফাঁকে ফেইসবুক চালাতে গিয়ে মাশরুম চাষের কিছু তথ্য দেখতে পায় পানছড়ির ইসলামপুর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে সোহাগ।

এসব তথ্যাদি ভালোভাবে পড়ে নিজেই উদ্যোগ নেয় মাশরুম চাষের। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুরু করে কার্যক্রম। প্রথমেই নিজ টমটম দিয়ে খড় সংগ্রহ করে এগুলো গরম পানিতে সিদ্ধ করে। পরে ৭০ ভাগ শুকনো ৩০ ভাগ ভিজা খড় পরিমানমত প্যাকেট করে সংগ্রহ করে মাশরুমের বীজ। ১০০টি প্যাকেটে বীজ দিয়ে প্রথম বারেই আসে সফলতা।  এর মাঝে বাজার জাতও করা হয়েছে। ১০০টি প্যাকেটে ফলন হয় ২০০ কেজি: প্রতি কেজির মূল্য ৩০০ টাকা। যা ২৭ দিন পর পর বাজারজাত করা সম্ভব।

সরেজমিনে সোহাগের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় অপরূপ সৌন্দর্যের মাশরুম ঝুলে থাকার দৃশ্য। ঘরের আড়াআড়ি ভীমের সাথে উপরে-নীচে ঝুলন্ত মাশরুম দেখতে দর্শনার্থীও আসে। কিছু দিনের মধ্যে ঘরের বারান্দায়ও মাশরুম ঝুলবে বলে সোহাগ আশা করছেন।

সোহাগের বাবা আবদুল মালেক জানান, কিছুদিন আগে সোহাগ গুরুতর অসুস্থ ছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে এখন টমটম চালনার পাশাপাশি মাশরুম চাষ শুরু করেছে। ছেলের এ ধরনের আগ্রহ আর সফলতা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান।

পানছড়ির সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুণাঙ্কর চাকমা জানাণ, কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই এ ধরনের সফলতা আসলেই বিরল। সোহাগকে মাশরুম চাষের উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য রাঙামাটি পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে সোহাগের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, অল্প পূঁজি দিয়েই চাষ শুরু করেছি। আমি এবং আমার সহধর্মিনী দু’জনেই উচ্চতর প্রশিক্ষণে যেতে আগ্রহী। আমি বাহিরে থাকলে সে দেখা-শুনা করলে আমার কাজের চাপ অনেকটা কমবে। তাছাড়া কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা থেকে লোনের ব্যবস্থা হলে বড় পরিসরে মাশরুম চাষ সম্ভব। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি চান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − 8 =

আরও পড়ুন