টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীছড়িতে রুইখই মার্মা’র ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

 

ইউপিডিএফ নেতা-কর্মীদের সমাবেশে আসতে বাঁধা ও নির্যাতনের অভিযোগ
n7867MMn`
স্টাফ রিপোর্টার:
খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় নানা আতংক আর টান টান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ইউপিডিএফ নেতা রুইখই মার্মা(অংসাইন বাবু) ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মাঠে মৃত্যু বার্ষিকীর শোক সমাবেশ করার অনুমোতি না পেলেও পুলিশের বাঁধার মুখে শিলাছড়ির পর ছোট ধুরুং এলাকায় শেষ পর্যন্ত ইউপিডিএফ’র নেতা-কর্মীরা শোক সমাবেশের আয়োজন করে।
পুলিশের বাঁধা উপক্ষো করে উপজেলা সদরে আসার জন্য অবশ্য বার বার চেষ্টা করে। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুরো উপজেলায় থম থমে অবস্থা বিরাজ করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শওকত ওসমান ছাড়াও পুলিশের উর্ধ্বত্বন কর্মকর্তা রামগড় সার্কেল সহকারি পুলিশ সুপার মো: শাহজাহান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.আই আরিফ সার্বক্ষনিক উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
এক পর্যায় অরেক বাক বিতন্ডা শেষে রাস্তার উপওে নিহত রুইখই মার্মার অস্থায়ী ভেদিতে নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি জেলা ইউডিএিফ’র সাংগঠনিক সম্পাদক অংগ্য মার্মা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি বিপুল চাকমা, হিল্স উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদীকা রিনা চাকমা, যুব ফোরাম নেতা রিপন চাকমা ও ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মার্মা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইউপিডিএফ’র খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক আপ্রুসি মার্মা। বক্তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে না দেয়ার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর সমালোচনা করেন। বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের নির্যাতন ও বাঁধা দেয়ার অভিযোগ করেন। অবিলম্বে জুলুম, নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য ২০০৯ সালের ২ অক্টোবর বর্মাছড়ি ইউনিয়নের বটথলী এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন রুইখই মার্মা। তিনি শান্তিবাহিনী থেকে আত্মসমর্পনের পর পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এ যোগ দেয়ার পর কেন্দ্রীয় সদস্য ছাড়াও লক্ষ্মীছড় উপজেলার সশস্ত্র শাখার চীফ কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনার দিন বর্মাছড়ি বটথলী এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে বেড়িয়ে জমির ভেতর দিয়ে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন পতিমধ্যে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে নির্ভিগ্নে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে জেএসএসকে দায়ি করলেও জেএসএস অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে জেএসএস’র পক্ষ থেকে একই দিন মানববন্ধন ওসমাবেশ করার ঘোষণা দিলেও তেমনটা চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে জেএসএস’র লক্ষ্মীছড়ি শাখার সভাপতি ধীমান চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসন থেকে আমরা অনুমোতি না পাওয়ার কারণেই আমাদের কর্মসূচী স্থগীত করেছি।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + five =

আরও পড়ুন