কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাব ও পুলিশ। ৩০ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার একটি খাড়া পাহাড়ের আস্তানা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান- গত ২৬ জুন ফেনী থেকে কক্সবাজারের টেকনাফে এসে নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান ও তহিদুল ইসলাম তামিম নামের দুই তরুণ। এ ঘটনায় ২৮ জুন ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলে মাঠে নামে র্যাব-১৫-এর একটি গোয়েন্দা দল। পরে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা টেকনাফের একটি পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের হাতে বন্দি আছেন।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে র্যাব-১৫ এবং টেকনাফ থানা পুলিশ যৌথভাবে হ্নীলার জুম্মাপাড়া এলাকার চরম দুর্গম পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। যৌথ বাহিনীর রণকৌশলের মুখে টিকতে না পেরে অপরাধীরা জঙ্গল ও পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে বন্দি অবস্থায় থাকা ৪ তরুণকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃতরা হলেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার গনিপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান ও মোঃ নিজাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ এমাম হোসেন, ফেনী পৌরসভার পশ্চিম রামপুর এলাকার মোঃ সেলিমের ছেলে তহিদুল ইসলাম তামিম এবং হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া তরুণরা জানান, অপহরণকারী চক্রটি তাদের হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছিল এবং পরিবারের কাছে জনপ্রতি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছিল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বর নির্যাতন চালানো হতো।
উদ্ধারকৃত তরুণদের প্রাথমিক পরিচর্যা শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস অপহরণ চক্রের মূল হোতা ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় র্যাব ও পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
