parbattanews

টেকনাফে চাকরির প্রলোভনে মানব পাচারকারী আটক

কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিদেশে পাচারকালে ২ কিশোরকে উদ্ধার করেছে। এসময় মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে ১ জন পাচারকারীকে আটক করা হয় এবং অপর এক পাচারকারী পালিয়ে যায়।

আটক পাচারকারী উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (০১), ব্লক সি/১৩,এর সৈয়দ আলমের পুত্র মো. রাসেদ (১৮) এবং পলাতক রয়েছে টেকনাফের বরইতলী গ্রামের মৃত সিদ্দিক আহমেদ পুত্র নুর হাসান (৩০)।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, সম্প্রতি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মিয়ানমারে মানবপাচারে একটি চক্র সক্রিয় হয়েছে। ওই চক্রের সদস্যরা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা (এফডিএমএন) চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২ জন বাংলাদেশী কিশোরকে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাঠানোর সংবাদ পায় বিজিবি।

এমন গোপন সংবাদে সোমবার সকালে বড়ইতলী এলাকায় পাচারকারীদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবির বেশ কয়েকটি অভিযান দল এবং নিজস্ব গোয়েন্দারা মাঠে নজরদারি বৃদ্ধি করে। পাচারকারীরা ভুক্তভোগী কিশোরদের নিয়ে কক্সবাজার হতে টেকনাফের বড়ইতলি গ্রামে আসে এবং বিজিবির তৎপরতা লক্ষ্য করে কেরানতলী এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় সাঁড়াশী অভিযান চালিয়ে ২ জন বাংলাদেশী কিশোরকে উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের ১ জনকে আটক করে বিজিবি। অভিযানকালীন সময়ে নূর হাসান নামে অপর একজন পাচারকারী পালিয়ে যায়।

উদ্ধার হওয়া ২ ভিকটিম হলো- কক্সবাজারের লাল দিঘির পাড়ের আইয়ুব খানের পুত্র মো. মাহিম (১৫) ও জসিমের পুত্র মো. সোহেল (১৬)।

এসময় আটক পাচারকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিয়ানমারে মানব পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে। আটক ব্যক্তি জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অবস্থানরত পাচারকারী চক্রের একজন সদস্য আমিন এবং তার যোগসাজশে বাংলাদেশী নাগরিকদের অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাঠানো হয়। পরে, ক্ষেত্রবিশেষে তার সহযোগিতায় ভুক্তভোগীদেরকে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া গমনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়রা জানান, চক্রটি বেশ কিছুদিন যাবৎ মাদক ও মানবপাচারসহ এলাকায় অবস্থান করেছে। এদের বিরুদ্ধে অতীতে মাদকপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তার হলেও এই অপরাধীরা কিছুদিন পর পর আবার বেরিয়ে আসে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, মানব পাচারচক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিচারের আওতায় আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। গ্রেপ্তারকৃত পাচারকারীকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর এবং মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবপাচার, মাদক নির্মূল এবং সকল অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Exit mobile version