টেকনাফে পল্লী চিকিৎসককে হত্যার হুমকি দিলো রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী

fec-image

টেকনাফে এক পল্লী চিকিৎসককে হত্যার হুমকি দিয়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এ পল্লী চিকিৎসক। তার নাম মো. নুরুল কাশেম। তিনি উনছিপ্রাং মৃত আব্দু সবুরের ছেলে। এ ঘটনায় টেকনাফ থানা ও সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প ইনচার্জকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে উনছিপ্রাং রইক্ষ্যং ক্যাম্প সড়কের ময়না মেডিকেল হল নামক ফার্মেসীর ওই চিকিৎসককে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়।

জানা গেছে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাংয়ের পুটিবনিয়া ২২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ পথে তিন নম্বর চেকপোষ্টের পূর্বে পাশের ময়না মেডিকেল হল নামীয় একটি ফার্মেসী রয়েছে। ওই ফার্মেসীতে দীর্ঘদিন ধরে মো. নুরুল কাসেম পল্লী চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি এ ফার্মেসির ওষুধও বেচাকেনা করে থাকেন তিনি।
হঠাৎ করে কয়েকদিন পূর্বে ওই রোহিঙ্গা শিবিরের জাফর আলম নামের এক রোহিঙ্গা হামলা করার উদ্যত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। প্রতিবাদ করায় তার কোমর থেকে একটি ছুরি বের করে হামলার চেষ্টা চালায়। তাদের শোর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে পল্লী চিকিৎসককে রক্ষা করেন। সেই সাথে ওই রোহিঙ্গা হত্যার হুমকি দিয়ে শিবিরে দিকে পালিয়ে যায়।

হুমকিদাতা রোহিঙ্গার পিতার নাম জানা না গেলেও তিনি শিবিরের বি ব্লকের ১ নং ঘরে থাকেন বলে জানা গেছে।

ওই চিকিৎসক জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। হঠাৎ করে জাফর আলম নামের এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা করে। সে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছে। যে কোনো সময় হত্যাসহ বড় ধরণের ক্ষতি সাধন করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নিরুপায় হয়ে টেকনাফ থানা ও ক্যাম্পের ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মিজান মোহাম্মদ মোর্শেদ মালেক বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ এসআই নূরে আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সাধনা ত্রিপুরা জানান, এ ব্যাপারে তার সঠিক জানা নেই। তবে আগামীকাল (৪ ডিসেম্বর) কিছু অভিযোগের শুনানির একটি দিন ধার্য্য রয়েছে। এর মধ্যে কেউ প্রশ্ন করলে বিব্রতবোধ করতে হয়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: টেকনাফ, রোহিঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − three =

আরও পড়ুন