কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি সফল অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৫ জন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ইয়াবার বড় চালান চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ নাফ নদী সংলগ্ন বড়ইতলী প্রধান সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন একটি সন্দেহজনক কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে এর পাটাতনের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩ লক্ষ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারকাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সাহাদাত হোসেন সাকিবকে (২৪) আটক করা হয়। আটক সাকিব কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার মৌলভী বাড়ি এলাকার মো. মান্নানের ছেলে।
অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড নজরদারি বৃদ্ধি করে। শুক্রবার রাত ২টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ গোলারচর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় মিয়ানমার থেকে আসা একটি সন্দেহজনক ফিশিং বোটকে থামার সংকেত দেয় কোস্ট গার্ড। পরে বোটটি তল্লাশি করে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা (শালবাগান ক্যাম্প) মোঃ ইয়াসিন (৩৫),টেকনাফের হাজমপাড়া এলাকার মকবুল আহমেদের ছেলে মোঃ ইসমাইল (২২),লাল মোহাম্মদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৩২) ও জসিম উদ্দিন (৩৩)।
অভিযানে জব্দকৃত ইয়াবা, পাচারকাজে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যান এবং ফিশিং বোটসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন। মাদক পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
