টেকনাফে ফের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু, প্রভাব নেই উখিয়ায়

fec-image

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফের তালিকাভুক্ত প্রায় অর্ধশত ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করছেন। তারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আগামী ২৯ জানুয়ারি সকালে ‘সেফহোমথ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো টেকনাফ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে হবে এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় বারের মতো ইয়াবা কারবারীরা সেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে গেলেও কোন প্রভাব নেই পাশ্ববর্তী আরেক উপজেলা উখিয়ায়। অথচ টেকনাফের পাশাপাশি উখিয়া ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কোন দিক দিয়ে কমতি নেই বলে জানালেন সচেতন মহল।

সূত্র মতে, এর আগে (২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি) টেকনাফের শীর্ষ ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণ করেছিল। এরপর থেকে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টিয়ে ইয়াবা চালান নিয়ে আসতে থাকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া, রহমতেরবিল, ধামনখালী, বালূখালী, শিয়াল্লাপাড়া, রেজু আমতলী, ডেইলপাড়া, করবনিয়া, চাকবৈঠা এবং ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, রেজুফাত্রাঝিরি, ময়জয়পাড়া, গর্জনবনিয়া, বরইতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানকারী মিয়ানমারের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ইয়াবা চালান নিয়ে এসে মজুদ করে থাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। মজুদকৃত ইয়াবা পরবর্তী সুযোগ বুঝে পাচার করে থাকেন দেশে বিভিন্ন স্থানে।

সচতেন মহল অভিযোগ করে বলেন, বারবার উখিয়ার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় ইয়াবা ও মাদক পাচার বন্ধ হচ্ছেনা।

জানা গেছে, চলতি মাসে জানুয়ারি মাসের ২৩ দিনে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গাও রয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের মে থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান এ বিশেষ অভিযানে গিয়ে ইয়াবা কারবারি, ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ৫৬ রোহিঙ্গাসহ ২০৯ জন ইয়াবা কারবারি ও ডাকাত-সন্ত্রাসী নিহত হয়। পাশপাশি গত এক বছরে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৭০ পিস ইয়াবাসহ ২ হাজার ৩৩৮ জনকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছিল আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল মনসুর বলেন, উখিয়ায় ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীর সু-নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই। তবে গত ৬ মাসে প্রায় শতাধিক ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের তৎপরতায় ইয়াবা ব্যবসা অনেকটাই কমে এসেছে। যারা এখনো এই কারবারে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 − 1 =

আরও পড়ুন