টেকনাফে মুক্তিপণ ও মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য অপহৃত ২২ জন উদ্ধার


কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ে চিরুনি অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় ও মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ১৫। যাদের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশী নাগরিক পুরুষ, রোহিঙ্গা পুরুষ-১০ জন, নারী ৪ জন ও ৭ জন শিশু রয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন কক্সবাজার র্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া অফিসার) আ.ফ. ম ফারুক।
তিনি জানান- গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার গভীর রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা এলাকার করাচিপাড়ার গহীন পাহাড়ে একটি চিরুনী অভিযান চালানো হয়। এসময় মুক্তিপণ আদায় ও মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দূর্গম পাহাড়ে প্রায় ৩ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস চিরুনী অভিযান চালিয়ে ১ জন (পুরুষ) বাংলাদেশী নাগরিক, ২১ জন রোহিঙ্গা (পুরুষ-১০ জন, নারী-৪ জন ও শিশু-৭ সহ ২২ জনকে জিম্মি করে আটক করা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যগণ কৌশলে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা যায়নি।
উদ্ধারকৃতদের জিজ্ঞেসাবাদে জানা যায়, তাদের কে হাতিয়ারঘোনার মোঃ খলিল (৪৫), রাশেদুল ইসলাম (২০), জাহানারা (৪১), আব্দুল্লাহ মেম্বার (৩৫), আব্দুল(২৬),আব্দুর রশিদ (২৮), শহিদুল্লাহ (২২),ওসমান গণি (২৬),ইয়াকুব (৩৫) এর মাধ্যমে অপহৃত হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মোবারক (১৭) জানায়- গত- ১৩ অক্টোবর বিকাল ৩ টায় কক্সবাজার সদরের কলাতলী হতে তাকে সিএনজি যোগে অপহরণ করে পাহাড়ে আটকে রেখে মারধর এবং তার পরিবারের নিকট ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তার সাথে উদ্ধারকৃত অন্যান্য রোহিঙ্গা ভিকটিমদেরকেও বিভিন্ন ক্যাম্প ও বিভিন্ন পথিমধ্য হতে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ না দিলে তাদের মালয়েশিয়া পাচার করার হুমকী দেয়। মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় ভিকটিম আমান উল্লাহসহ কয়েকজন ভিক্টিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দ্বারা পুড়ে দেয় এবং আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
এঘটনায় ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনের টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানায় র্যাবের ওই কর্মকর্তা।
















