টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি, আতঙ্কে রোহিঙ্গারা


কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার করতে রাতভর মুহুর্মুহু গুলির শব্দে পুরো এলাকা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপিবিএন পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।
গত রাত ১টা পর্যন্ত গুলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত ১০ টায় হঠাৎ করে শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২৬ এর আই- ব্লক ও নয়াপাড়া নিবন্ধীত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ এবং আই ব্লকে গুলাগুলি শুরু হয়। এতে সাধারণ রোহিঙ্গা ও আশপাশের হোস্ট কমিউনিটি ভীতসন্ত্রস্ত, অসহায় আতংকের মধ্যে পড়ে।
সুত্রে আরো জানা যায়, নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আই ব্লকের আধিপত্য বিস্তার করতে ছালেহ গ্রপ ও নুর কামাল গ্রুপের সাথে গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। মুলত অপহরণ, মাদকের চালান, মানবপাচার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই স্বশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে এঘটনা ঘটে। এতে অন্ততঃ শত শত রাউন্ডের গুলি বিনিময় হয়। স্থানীয় সুত্র আরও জানা যায়, উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যাধুনিক ভারি অস্ত্র রয়েছে।
হোস্ট কমিউনিটির মোছনী এলাকার হোছন জানান, হঠাৎ করেই রাতের বেলায় শত শত রাউন্ড গুলির আওয়াজে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। মনে হয়েছিল কোন দেশের সাথে যুদ্ধ চলছে। এসময় এলাকায় আতংক বিরাজ করে। এদিকে রাতভর গুলাগুলি চললেও আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে ১৬ এপিবিএন পুলিশ অধিনায়ক মো. কাউছার সিকদার বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত নুর কামাল ও ছালেহ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা নয়াপাড়া এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্পের পিছন দিক থেকে আক্রমনের চেষ্টা করে। এপিবিএন সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে শর্টগান থেকে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পরে তারা ঠিকতে না পেরে পিছনের পাহাড়ে পালিয়ে যায়। রাতের আঁধারে অভিযান চালানো জীবনের ঝুঁকি হওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পের পরিস্থিতি শান্ত ও এপিবিএন পুলিশের টহল জোরদার আছে।
অপরদিকে, টেকনাফের সচেতন মহল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের নির্মুল করতে গহীন পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবী জানান।

















