টেকনাফে রোহিঙ্গা ডাকাত বাহিনীর অপহরণের শিকার স্থানীয় দুই কৃষক আট দিনেও উদ্ধার হয়নি

fec-image

কক্সবাজার জেলার টেকনাফে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার দুই বাংলাদেশী স্থানীয় কৃষক অপহরণের আটদিন অতিবাহিত হলেও জীবিত অথবা মৃত উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় পরিবার পরিজনের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসির মাঝে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিশাল জমায়েত এবং বিক্ষোভ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার পূর্বক ফিরে দেওয়ার আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পুলিশ বেশ কয়েকদিন ধরে একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে বিরামহীনভাবে গভীর পাহাড়ে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গা ডাকাত বাহিনীর হাতে আটক স্থানীয় দুই কৃষকের কোন হদিস এখনো পায়নি।

সর্বশেষ ৭ এপ্রিল অপহৃতদের ইদ্রিসের মুঠোফোন থেকে অপর অপহৃত শাহেদের পরিবারের কাছে ২২ লাখ মুক্তিপণ দাবি করে রোহিঙ্গা হাকিম ডাকাতের জনৈক সদস্য। এমনটি জানিয়েছেন শাহেদের চাচা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন হ্যাডম্যান।

এর আগে শাহেদের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা ডাকাতরা শাহেদকে মুক্তি দিতে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিল। এ টাকা জমা দেওয়ার ডেড লাইন ছিল ৫ মে। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে বলেও জাানান রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃতদের উদ্ধার ও শীর্ষ ডাকাতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিরলসভাবে অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে রঙ্গিখালীর গহিন পাহাড়ে পুলিশের সঙ্গে শীর্ষ ডাকাতদলের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শীর্ষ তিন ডাকাত নিহত হন ও প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র ও গুলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে পুলিশ কর্মকর্তা সহ ৫ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ এসআই মশিউর রহমান জানান, অপহৃতদের এখনো উদ্ধার করা যায়নি। তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিমের নেতৃত্ব সশস্ত্র রোহিঙ্গারা গত ২৯শে এপ্রিল বুধবার রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মীনাবাজার এলাকার ধানক্ষেত থেকে স্থানীয় ৬ জন কৃষককে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়।

অপহরণের কয়েক ঘন্টা পর চালসহ খাদ্যসামগ্রী মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহরণের শিকার ৬জনের মধ্যে কৃষক আবুল হাশেম এবং তার দুই পুত্র জামাল উদ্দীন ও রিয়াজ উদ্দীনকে মুক্তি দেয় হাকিম বাহিনী। বাকি তিনজনকে নিয়ে গহীন পাহাড়ে ঢুকে কখনও তিন লাখ আবার কখনও ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসছে ডাকাতরা।

ডাকাতদের হাতে জিম্মি তিনজনের মধ্যে আক্তার উল্লাহ নামে একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ গত ১লা মে (শুক্রবার) ভোরে হোয়াইক্যংয়ে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড় থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। আক্তার উল্লাহকে হত্যার পর ডাকাতেরা তার স্বজনদের মোবাইল করে খবর পাঠায়। এখনও বিশাল অংকের টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ডাকাতেরা আটক করে রেখেছে কৃষক মোহাম্মদ শাহেদ২৫) ও মোহাম্মদ ইদ্রিস(২৭)কে।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন কয়েকটি টিমে ভাগ করে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো মূল্যে সশস্ত্র ডাকাত দলকে মুলোৎপাটন করা হবে।

স্থানীয় এলাকাবাসির ভাষ্য মতে, অপহরণকারীদের নেতৃত্বে রয়েছে কুখ্যাত রোহিঙ্গা আবদুল হাকিম ডাকাত। তিনি শুধু এই অপহরণ নয়, তার আগেও স্কুল শিক্ষার্থী সহ নানা শ্রেণীর লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ নিয়েছে। অনেককেই নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তাকে ধরতে ইতিমধ্যে হেলিকপ্টারযোগেও অভিযান পরিচালনা করেছিল র‌্যাব।

পুলিশ, র‌্যাবসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা অতীতে বিভিন্ন সময়ে কুখ্যাত হাকিম ডাকাতকে ধরার জন্য নানা কৌশলে অভিযান পরিচালনা করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে এই ডাকাত সর্দার।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অপহরণের, টেকনাফে, ডাকাত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

আরও পড়ুন