কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ লেঙ্গুর বিল সড়কের সংস্কার করা কাজ শেষ হতে না হতেই একাংশ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বেহাল দশা। বিভিন্ন স্থানে গর্ত, খানাখন্দ আর ভাঙনের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং যানবাহন চালকরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। এছাড়াও এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়ত করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয়দের অভিযোগ— সড়কটির কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির সংস্কার কাজ তিনটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ শেষ করলেও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ ও দায়সারাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। বর্ষার শুরুতেই ধসে গেছে রাস্তার বিভিন্ন অংশ, যা ঠিকাদারদের কাজের আসল মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করিয়েছে। প্রতিদিন শতশত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু এখন রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চলতি বর্ষায় সড়কটির পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অনেক স্থানে হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বুঝতে পারছেন না চালকরা।
চালকরা জানান, গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। রাতের বেলা চলাচল আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, সেই সাথে যাত্রীরাও মারাত্মক চোট পাচ্ছেন।
স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সড়কটি মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
সড়কটির এমন নাজুক অবস্থার পেছনে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আলাউদ্দিন জানান- বর্ষার কারণে এবং তারও আগে থেকে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌরসভাকে অনুরোধ করেছি। বৃষ্টি কমলে পৌরসভা কাজ শুরু করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
অন্যদিকে, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম অনীক চৌধুরী জানান, জনসাধারণের দুর্ভোগ কমানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন- সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই আশ্বাস আর অনুরোধের’ চক্করে পড়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শুধু কথার কথা নয়, অবিলম্বে টেকনাফ পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে মাঠে নেমে জরুরি ভিত্তিতে লেঙ্গুর বিল সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনঃসংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
