টেকনাফে ৭ গ্রামবাসীকে অপহরণ: রোহিঙ্গা ডাকাতদের মুক্তিপণ দাবি

fec-image

টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং ইউনিয়নের মিনাজার এলাকার ৭ গ্রামবাসীকে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ২৮ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মিনাবাজার পশ্চিম পাড়ার শাহেদ (২৫) পিতা- মোহাম্মদ হোছন, আকতার উল্লাহ্‌ (২৫) পিতা-মো. আবুল কাসেম, মো. ইদ্রিস (২৬) পিতা- কাসেমসহ আরও ৪ জনসহ মোট ৭ জনকে রোহিঙ্গা ডাকাত গ্রুপ অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে নিয়ে যায়।

ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন আহমদ জানান, গ্রামের ওই লোক গুলো তখন মিনাবাজারের পশ্চিমে পাহাড়ের ঘোনায় তাদের ধান ক্ষেত পাহারা দিতে সেখানে গিয়েছিল।

পরবর্তীতে ৪ জনকে ছেড়ে দিয়ে অপহৃত ইদ্রিস এর মোবাইল থেকে তার বাড়িতে কল দিয়ে নগদ তিন লক্ষ টাকা দাবি করে ডাকাতরা। টাকা না দিলে তাদেরকে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। তারা আরও বলে দাবিকৃত টাকা না দিলে বা এই কথা পুলিশ বা অন্য কাউকে বললে পরিনতি আরও ভয়াবহ হবে। এই ঘটনায় অপহৃতদের পরিবারের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। অপহৃতদেরকে ডাকাতদের কবল থেকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ এসআই মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য হোয়াই্যং ইউনিয়ন এর মীনা বাজার এলাকার পশ্চিমে পাহাড়ে রয়েছে রোহিঙ্গা ডাকাতদের একাধিক ঘাটি। সেখান থেকে রোহিঙ্গা ডাকাতরা মাদক নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংগঠিত করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এমন খবরও আছে কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম এসব আস্তানায় ঘুরে বেড়ায়। আর সুবিধামতো অপহরণ রাহাজানি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে এবং সেখান থেকেই মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

দুর্গম হওয়ায় এসব আস্তানা গুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান এক প্রকার কঠিন ব্যাপার। তারপরেও কিছুদিন আগে হেলিকপ্টার নিয়ে এ সমস্ত আস্তানা গুলোতে অভিযান চালিয়ে ছিল র‍্যাব।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অপহরণ, টেকনাফে, রোহিঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − eleven =

আরও পড়ুন