টেকনাফ সীমান্তে এক বছরে ২০৫ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে বিজিবি

fec-image

মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অপরাধ দমনে এক অনন্য বছর পার করেছে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে গত এক বছরে সীমান্ত সুরক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে ইউনিটটি।

গত বছরে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে বড় সাফল্য অর্জন করেছে বিজিবি জওয়ানরা। বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় এক বছরে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ পিস ইয়াবা, ৫ দশমিক ২৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৯টি হাতবোমা। এসব জব্দকৃত মালামালের বাজারমূল্য ২০৫ কোটি টাকারও বেশি। এসব ঘটনায় ১৩০ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

শুধু অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ২ বিজিবি, মানবিকতার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সাগরপথে মানব পাচারের শিকার ৪১৪ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাচার চক্রের ৯৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরাকালে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক আটক ১২৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক চোরাচালান প্রতিহত করার পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৫১৫ জন সদস্যকে গ্রহণ করে পরবর্তীতে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে ১,৫০০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ৫২৫টি অসহায় পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা জোরদারে দুর্গম এলাকায় নতুন বিওপি (BOP) স্থাপন এবং আধুনিক ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “সীমান্তের এক ইঞ্চি জায়গাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ নয়।”

তিনি আরও জানান, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বিজিবি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত। এই ধারা ভবিষ্যতেও আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: টেকনাফ, বিজিবি, মাদক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন