কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী মির্জাজোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বিজিবি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি জানান, ২২ জুন ২০২৫ সকালে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, অত্র ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার বিআরএম-৬ হতে আনুমানিক ৮০০ গজ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মির্জাজোড়া নামক এলাকা দিয়ে মায়ানমার হতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক তাৎক্ষণিকভাবে মির্জাজোড়া এলাকার বেড়িবাঁধ, নাফ নদী ও তীরবর্তী বেশকিছু কৌশলগত স্থানে দ্রুত বিশেষ টহল মোতায়েন করেন। একইসাথে বিজিবির দমদমিয়া বিওপি থেকে আরেকটি নৌ টহলদল ফ্যান্টম বোটযোগে নাফ নদীর মির্জাজোড়া সংলগ্ন এলাকায় গোপনে অবস্থান নেয়।
অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি আরো জানান, আনুমানিক সকাল সাড়ে পাঁচটায় বিজিবি টহলদল মায়ানমারের জলসীমায় একটি নৌকাকে র্দীঘক্ষণ যাবৎ ঘোরাঘুরি করতে দেখে সেটিকে অনুসরণ করতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে নৌকা হতে ২ জন ব্যক্তিকে নাফ নদীতে নেমে সাঁতরে কেওড়া বাগানের ভিতর দিয়ে মির্জাজোড়া এলাকার দিকে আসতে দেখে তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি টহলদল তাদেরকে ধাওয়া করে।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ব্যক্তিরা তাদের কাছে থাকা প্লাস্টিকের বস্তা কেওড়া জঙ্গল সংলগ্ন মাছের প্রজেক্টের পাশে লুকিয়ে রেখে প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কেওড়া জঙ্গলের ভিতরে গা ঢাকা দেয়।
অভিযানরত বিজিবি সদস্যরা দীর্ঘ সময় তল্লাশি শেষে কেওড়া জঙ্গলের ভিতরে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া কর্দমাক্ত দুটি প্লাষ্টিকের ব্যাগের ভিতর হতে বিশেষভাবে মোড়কজাত অবস্থায় ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এসময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে এর সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে জব্দকৃত নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট জমার জন্য প্রযোজ্য সকল প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিজিবি।
