মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানি কর্মকর্তাদের ‘কট্টরপন্থী’ ও ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি এজেই এই মন্তব্যকে ভিত্তিহীন ও অযাচিত উস্কানি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় ইরানের ক্ষমতার তিন শাখার প্রধানরা জাতীয় ঐক্য ও দৃঢ় সংকল্পের বার্তা দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন, “ইরানে কোনো ‘কট্টরপন্থী’ বা ‘মধ্যপন্থী’ নেই। আমরা সবাই ইরানি এবং বিপ্লবী। জাতি ও রাষ্ট্রের ইস্পাত-কঠিন ঐক্য এবং নেতার প্রতি অবিচল আনুগত্যের মাধ্যমে আমরা যেকোনো আগ্রাসীকে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করব।”
বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি এজেই বলেছেন কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের বোঝা উচিত যে পশ্চিমা রাজনৈতিক অভিধানে ব্যবহৃত এসব শব্দ ইরানি প্রেক্ষাপটে অর্থহীন। ইরানের সকল জনগোষ্ঠী তাদের নেতার নেতৃত্বে অটুট ও ঐক্যবদ্ধ।”
প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটেই এই যৌথ প্রতিক্রিয়া এসেছে। উল্লেখ্য যে, চলমান সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের সরকার গুরুতরভাবে বিভক্ত, যা মার্কিন নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, গত (২৮ ফেব্রুয়ারি), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের ও বিনা উস্কানির যুদ্ধ শুরু করে এবং তৎকালীন ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করে।
এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনার ওপর ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
৮ই এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার পরে ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইরান মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে একটি দশ-দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করে।
২১ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থার অভাবকে ইরান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে।
উৎস : তাসনিম নিউজ এজেন্সি
