ডাক্তার-জনবল সংকটে রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগ

fec-image

দেশের অন্যতম সবচেয়ে বড় জেলার নাম রাঙামাটি। পুরো এলাকার বেশিরভাগ জায়গা পাহাড় -দূর্গম। পাহাড়ি এই জেলায় পাহাড়ি-বাঙ্গালী মিলে প্রায় ১০লাখ অধিক লোকের বসবাস। পুরো এলাকায় দূর্গমতার কারণে একদিকে যেমন জনগণের মাঝে সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য সেবা পৌছানো যায় না তেমনি স্বাস্থ্য বিভাগে রয়েছে চিকিৎসক এবং জনবল সংকট।

এছাড়াও দূর্গম এবং নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বেশিরভাগ চিকিৎসক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছাড়পত্র নিয়ে পাড়ি জমান বিভাগীয় বড় শহরগুলোতে। তাই চিকিৎসকসহ প্রতিনিয়ত নানা সংকটে জর্জরিত হচ্ছে রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, রাঙামাটির স্বাস্থ্য বিভাগের এমন বেহালদশার মূল কারণ হলো- শান্তিচুক্তির নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগকে জেলা পরিষদের অধীনে পুরোপুরি ন্যাস্ত রাখার কথা থাকলেও রাজনৈতিক নানা ঝুট-ঝামেলা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে পরিপূর্ণভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণ জেলা পরিষদের অধীনে রাখা যায়নি। প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী জেলা পরিষদ নিয়োগ দিয়ে থাকে। অনেক সময় কেন্দ্র থেকেও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া হয়। যে কারণে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা পরিষদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং আইনি জটিলতার কারণে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে এমন বেহাল দশায় পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া আবার যেসব ডাক্তার কর্মরত রয়েছে, এর মধ্যে অনেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে জেলার বাইরে অবস্থান করছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী ডাক্তরদেও স্ব-স্ব কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও অনেকে জেলা শহরে ব্যক্তিগত চেম্বারে অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দূর্গম এলাকাগুলোতে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগীরা চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়- জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ডাক্তার থাকার কথা ১৭৬জন। কর্মরত আছে ১১৯জন। ডাক্তার সংকট রয়েছে ৫৭জন। সেবিকা কর্মরত থাকার কথা ২৬৮জন। কর্মরত আছে ১৮১জন। সংকট রয়েছে ৮৭জন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত থাকার কথা ১০৩জন। কর্মরত আছে ৯৩জন। সংকট রয়েছে ১০জন। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কর্মরত থাকার কথা ৩৭জন। কর্মরত আছে মাত্র ৮জন। সংকট রয়েছে ২৯জন। স্বাস্থ্য পরিদর্শক কর্মরত থাকার কথা ১৩জন। কর্মরত আছে ১১জন। সংকট রয়েছে ২জন। স্বাস্থ্য সহকারি কর্মরত থাকার কথা ১৮৫জন। কর্মরত আছে ১৬৬জন। সংকট রয়েছে ১৯জন।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইটার কর্মরত থাকার কথা ১৫৬জন। কর্মরত আছে ১৩৪জন। সংকট রয়েছে ২২জন। তৃতীয় শ্রেণী নন টেকনিক্যাল কর্মরত থাকার কথা ৫৫১জন। কর্মরত আছে ৪৭০জন। সংকট রয়েছে ৮১জন। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি কর্মরত থাকার কথা ২৬৮জন। কর্মরত আছে ১৯০জন। সংকট রয়েছে ৭৮জন। তবে তৃতীয় শ্রেণীর টেকনিক্যাল পদে শূন্য কোটা পূরণের লক্ষ্যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫৫জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা: বিপাস খীসা বলেন, আমরা চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল সংকটে ভুগছি। এইসব জনবল সরকারের পক্ষ থেকে যদি নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে আরো গতিশীল করা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন আরও বলেন, আমরা বসে নেই। জনবল সংকট পুরণের জন্য ইতিমধ্যে জেলা পরিষদকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণীর
কর্মকর্তা-কর্মচারী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাই সরকার সুনজর দিলে এইসব শূন্য পদে নিয়োগ দিতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রাঙামাটি, স্বাস্থ্য বিভাগ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × three =

আরও পড়ুন